পাবনা প্রতিনিধি

  ১৩ অক্টোবর, ২০২১

সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ 

পাবনার বেড়া উপজেলার মাশুমদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শহিদুল হকের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় ২৩ লক্ষাধিক টাকার হদিস মিলছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্তে অর্থ আত্মসাত ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগকে বিষয়টি অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র প্রেরণ করলেও অদৃশ্য শক্তির দাপটে ঘটনা ধামাচাপা পড়ে আছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাশুমদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যানের অনূকুলে ১৪১৭ থেকে ১৪২১ বাংলা সাল পর্যন্ত ঘাট ইজারার আয় থেকে বেড়া উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভাজনকৃত অর্থের মধ্যে ৩টি চেকের মাধ্যমে ২৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৩ টাকা ৭০ পয়সা ইউনিয়ন পরিষদকে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বরাদ্দকৃত অর্থ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য পরিষদের নামে ব্যাংক হিসাবে জমা রেখে চেয়ারম্যান ও সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে চেকের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে ব্যায়ের বিধান রয়েছে। কিন্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহিদুল হক নিজের নামে আলাদা একটি ব্যাংক হিসাবে ঐ অর্থ জমা রেখে ইচ্ছাকৃত ব্যায় দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত করেছেন। যা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে সতত্যা পাওয়া গেছে। 

ইউপি সচিবের ব্যাখ্যা ও প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, জনতা ব্যাংক মাশুমদিয়া শাখায় চেয়ারম্যান মাশুমদিয়া ইউনয়ন পরিষদ বেড়া পাবনা’’ শিরোনামে চেয়ারম্যান ও সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হিসাব নং-১১৫ চালু থাকা সত্বেও গত ১৪১৭ হতে ১৪২১ বাংলা সন পর্যন্ত ইজারাকৃত ঘাটের আয় বাবদ ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেড়া পাবনার কার্যালয় হতে প্রাপ্ত ২৩/৯/২০১৪ তারিখে ৮০৪৩৯৯৫ নং ক্রস চেকের মাধ্যমে ৭,৭২,০১৩ টাকা, ১৭/১১/১৪ তাং-৮০৪৫৭৩২ নং ক্রস চেকের মাধ্যমে ৬,৬৮,০০৮/৮২ টাকা  ও ০২/১২/১৪ তাং ৮০৪৫৭৪১ নং ক্রস চেকের মাধ্যমে ৮,৮৫,৭৪১,৮৮ টাকাসহ সর্বমোট ২৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৩,টাকা ৭০ পয়সা মাশুমদিয়া ইউপি সচিবকে না জানিয়ে ঐ সাবেক চেয়ারম্যন অগ্রণী ব্যাংক ত্রিমহোনী শাখা পাবনাতে চেয়ারম্যান মাশুমদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ বেড়া পাবনা শিরোনামে একক নাম ও স্বাক্ষরে নতুন আরেকটি চলতি হিসাব খুলে উল্লেখিত ৩ (তিন) টি চেক জমা দেন এবং একক স্বাক্ষরে ইচ্ছামত টাকা উত্তোলন করে ব্যায় দেখান। যা আইন বিরোধী। 

তদন্ত প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, উক্ত অর্থ দিয়ে গৃহীত প্রকল্পের মধ্যে অধিকাংশই মাটির কাজ দেখানো হয়েছে। এছাড়া দৃশ্যমান কোন প্রকল্প খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে তৎকালিন চেয়ারম্যান মো. শহিদুল হক ঘাট ইজারার সরকারি বরাদ্দকৃত ২৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৩ টাকা ৭০ পয়সা তসরুপ করেছেন। এ বিষয়ে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার একই চিত্র খুঁজে পেয়েছে বলে একটি সুত্র জানিয়েছেন।  

এ ব্যাপারে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ মাশুমদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দুর্নীতিবাজ তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. শহিদুল হকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি করেছেন। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শহিদুল হক বলেন, উপজেলার পরিষদ থেকে সেই সময় এ ব্যাপারে কোন নির্দেশনা না থাকায় একাউন্ট করা হয়েছিল। পরবর্তিতে নিদের্শনা পেয়ে সচিব ও আমার যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব খুলে বরাদ্দকৃত টাকা সঠিকভাবে ব্যায় করা হয়েছে। কোন অর্থ আত্মসাত করা হয় নাই।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সাবেক চেয়ারম্যান,সরকারি টাকা,আত্মসাত
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close