ব্রেকিং নিউজ

শিশু শিক্ষার্থী আসিফ হত্যা, গ্রেফতার ২

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২০, ২০:০৮ | আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২০, ২০:১৩

অনলাইন ডেস্ক

আশুলিয়ার কলতাসূতী এলাকায় নিখোঁজের দুই দিন পর আসিফ (৮) নামের  এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আশুলিয়া থানা পুলিশ ও ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ অভিযানে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে।

শুক্রবার ভোরে আশুলিয়ার কলতাসুতী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কলতাসুতি এলাকার একটি শ্রমিক কলোনির গলি থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আসওয়াদুর রহমান।

গ্রেফতাররা হলেন- নাটোর জেলার গুরুদাশপুর থানার নিতাই কর্মকারের ছেলে অন্ন কর্মকার (৩২) ও তার শ্যালকে টাঙ্গাইল জেলা সদর থানার গবিন্দ কর্মকারের ছেলে নেপাল কর্মকার (১৪)। তারা আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত আসিফ ওই এলাকার জুয়েল রানার ছেলে। সে স্থানীয় দিপারোজ স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে লেখা পড়া করতো।

পুলিশ জানায়, ওই এলাকার একই বাড়ির ভাড়াটিয়া নিহত আসিফের পরিবার ও অন্ন কর্মকারের শ্যালক নেপাল কর্মকারকে নিয়ে ভাড়া থাকতো। নেপাল কর্মকার বাসাতেই থাকতো এবং আসিফসহ অন্যান্যদের সাথে খেলাধুলা করতো। তবে আসিফ প্রায়ই নেপাল দাশকে গালাগালি করতো। ঘটনার দিনও তাদের দ্বন্দ্ব হলে আসিফকে তার মা ঘরের ভিতর আটকিয়ে রাখে। বিকেলে ছেড়ে দিলে নেপাল কর্মকার তাকে ফ্যানের মোটর দেওয়ার কথা বলে রুমে নিয়ে যায়। মোটর দেওয়ার পরেও সে গালাগালি করলে আসিফের গলা টিপে ধরে নেপাল। সে নিস্তেজ হয়ে গেলে বিছানায় রেখে আবার গলায় পা দিয়ে চেপে ধরলে আসিফ মারা যায়। পরে তাকে তার ওয়ার ড্রপে লুকিয়ে রাখে। এদিকে সন্ধ্যায় আসিফকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে রাত নয় টায় নেপালের ভগ্নিপতি অন্ন কর্মকার বাসায় আসলে তাকে ঘটনা খুলে বলে নেপাল।  কোন উপায় না পেয়ে ১২ অক্টোবর রাত তিনটার দিকে আসিফকে ওই গলিতে ফেলে দেয় অন্ন কর্মকার। পরে  ১৩ অক্টোবর সকালে আসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় মামলা দায়ের হলে ডিবি পুলিশ সহ আশুলিয়া থানা পুলিশ তদন্ত করে আসামিদের গ্রেফতার করে আজ আদালতে প্রেরণ করে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আসওয়াদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে তদন্তে শুরু করি। পরে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। তারা স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পিডিএসও/এসএমএস