রাণীশংকৈলে কারেন্ট পোকা দমনে কাজ করছে কৃষি অফিস

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৩:৫৯

রাণীশংকৈল প্রতিনিধি

অন্ধকার রাত, গ্রাম-গঞ্জের হাট বাজারের দোকান পাট প্রায় বন্ধ ও বাড়ির মানুষজন বেশিরভাগ ঘুমিয়ে পড়েছেন।সে-সময় হঠাৎ মাইকিং সন্মানীত আমন চাষী ভাইদের জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমান আবহওয়ায় কারেন্ট পোকার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আপনার ধান খেত কারেন্ট পোকায় আক্রমণ করলে সম্পূর্ণ রুপে নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং মারাত্মক ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে। এছাড়া কোন রকম ফলন না পাওয়া যেতে পারে। এ জন্য কারেন্ট পোকা দমন করতে হলে আপনার ধান খেত দু-হাত পর পর ফাকাঁ করে দিয়ে অনুমোদিত কীটনাশক ধান গাছের গোড়ায় স্প্রে করে দিন।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনার ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে আজই যোগাযোগ করুন। প্রচারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাণীশংকৈল। এমন মাইকিং শুনে গ্রামের অনেকে আবার ঘরের বিছানা থেকে উঠে  রাস্তায় দেখছে কে এত রাতে মাইকিং করছে।

হোসেনগাঁও ইউপির ক্ষুদ্রবাশঁবাড়ী এলাকার কৃষক সুমন পাটোয়ারী জানান, হঠাৎ রাতে মাইকিং শুনে রাস্তায় এসে দেখি একটি বড় কালো রংয়ের জীপ গাড়িতে দুজন লোক বসে রয়েছে। এতে একজন মাইকে ধান খেতে কারেন্ট পোকার উপস্থিতি এবং দমনের পরামর্শ বলে দিচ্ছেন পাশে আরেকজন বসে রয়েছেন। কাছে গিয়ে দেখা যায় বসে থাকা লোকটি হলো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ, মাইকে পরামর্শ দেওয়া ব্যক্তি হলেন-উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম।

কারেন্ট পোকা দমনে কৃষকদের পরামর্শে দিতে দিনের পর রাতেও এভাবেই গ্রাম গঞ্জে প্রচার করে বেড়াচ্ছেন ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথসহ তার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এছাড়াও উঠান বৈঠক, মহল্লা বৈঠক এবং শুক্রবার জুম্মার দিন ইমাম সাহেবের মাধ্যমে প্রত্যেক মুসল্লির হাতে পোকা আক্রমণের লক্ষণ ও দমনে স্প্রে করার নিয়মাবলীর চিরকুট বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা কাশিপুর ইউনিয়নের কার্দিহাট এলাকার কৃষক দেলোয়ার জানান, তিন বিঘা ধানি জমিতে বর্ষণের পানি জমাট বেঁধে ছিল। পানি শুকিয়ে যাওয়ার পরই ধানে ব্যাপক কারেন্ট পোকার আক্রমণ হয়। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ নিজে এসে ধান খেতে কিভাবে স্প্রে করতে হবে তা আমাকে দেখিয়ে দেয়। পরে আমি ধান খেতে স্প্রে করলে কারেন্ট পোকা দমন হয়ে যায়। আর কিছুদিন নাগাদ আমি ধান কাটবো ফলনও ভালো হবে বলে আমি মনে করছি।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এবার আমনে বিভিন্ন জাতের ২১ হাজার ৪ শত ৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। স্থানীয়দের সুত্রে জানা যায়, উপজেলা জুড়ে এবারে আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভবনা ছিল। কিন্তু ধান রোপনের পর থেকে লাগাতার ভারী বর্ষণের কারণে রের্কডবিহীন কারেন্ট পোকা আক্রমণ শুরু করে ধান খেতে। এদিকে ধান খেতে কারেন্ট পোকা দমনে কোমর বেধেঁ নামে উপজেলা কৃষি অফিস। উপজেলা কৃষি অফিসের সংশ্লিষ্টরা দিন রাত কৃষকের পাশে থেকে সঠিক পরামর্শ দেওয়ায় বর্তমানে এ উপজেলায় কারেন্ট পোকা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে।

কৃষকরা আশাব্যক্ত করে বলেন, আমাদের উপজেলায় কৃষি অফিসের অক্লান্ত সহায়তায় খুব শিগগির কারেন্ট পোকা একেবারে দমন হয়ে পড়বে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, কারেন্ট পোকা দমনে কৃষকদের সহায়তা দিতে আমি ও আমার অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা- কর্মচারীরা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। বিশেষ করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে ধান খেত পরির্দশন করে যে ধান খেত আক্রমণ হয়েছে। তবে কৃষক বুঝতে পারেনি সে-সব খেত সনাক্ত করে স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছে। এছাড়াও যারা গরিব পর্যায়ের কৃষক তাদের কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় কীটনাশক স্প্রে’র সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পিডিএসও/ জিজাক