ব্রেকিং নিউজ

আবার ঘুরে দাঁড়াক পর্যটনশিল্প

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বে পর্যটনশিল্পে এক অপার সম্ভাবনার নাম বাংলাদেশ। এ দেশের প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য পৃথিবীর অন্য দেশ থেকে অনন্য ও একক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। তা সত্ত্বেও পর্যটনশিল্পে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। এ শিল্পের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা। পাশাপাশি এ শিল্পের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। সঠিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে পর্যটনশিল্প অন্যতম ভূমিকা পালন করতে পারবে। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত মার্চের পর থেকে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল, প্রায় ৬০০ রেস্তোরাঁ, বার্মিজ মার্কেটসহ হাজার পাঁচেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল প্রায় পাঁচ মাস। এতে কর্মহীন হয়ে পড়ে লক্ষাধিক মানুষ। তবে সরকারের নানা পরিকল্পনায় আবার আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প।

সম্প্রতি পর্যটনের জন্য বিভিন্ন শর্তে সীমিত পরিসরে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার। যদিও এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি দেশের সবচেয়ে বড় এ সমুদ্রসৈকত। মহামারির পাশাপাশি ভরা মৌসুম না হওয়ায় বেকায়দায় আছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পরিস্থিতির আরো উন্নতি হলে আসন্ন পর্যটন মৌসুমে দেশি পর্যটকে ব্যবসা চাঙা হওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন তারা। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘শঙ্কা কাটছে না পর্যটনশিল্পে’ শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ভরা মৌসুমে কক্সবাজারে প্রতি বছর দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটে। কয়েক মাসের অচলাবস্থার পর কম হলেও কক্সবাজারে পর্যটকের আনাগোনা শুরু হয়েছে। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পটগুলোতেও পা পড়ছে পর্যটকদের। সামনের মৌসুমে মহামারির প্রাদুর্ভাব আরো কমে গেলে পর্যটকও আরো বাড়বে। তবে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটক ও পর্যটনশিল্পে জড়িত সবাই যাতে স্বাস্থ্যবিধি এবং অন্যান্য নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে, সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। পর্যটনকেন্দ্রে সবাইকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এর কোনো বিকল্প নেই। এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারিভাবে হোটেল-মোটেল চালু করা হলেও পর্যটকদের ভিড়ে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে পারে। এ কথা মাথায় রেখেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন স্পটগুলো কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতি জারি করেছে পর্যটন মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন পরিবহন, হোটেল, মার্কেট, রেস্তোরাঁয় পাঠানো হয়েছে সেটি। বিষয়টি নজরদারির জন্য জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবগত করা হয়েছে।

বলা সংগত, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দেশে পর্যটন খাতে ক্ষতি হয়েছে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বেকার হয়ে পড়েছে এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৪০ লাখ মানুষ। তাদের ওপর নির্ভরশীল কমপক্ষে দেড় কোটি মানুষ কঠিন সময় পার করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ী। নভেম্বর থেকে শুরু হবে প্রধান পর্যটন মৌসুম। সবাই নতুন মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজন্য প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতে সরকারের সহযোগিতা। এ ছাড়া বিদেশি পর্যটক টানতে ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত সহজ করা উচিত বলেও আমরা মনে করি। আমরা আশা করি, সব শঙ্কা কাটিয়ে দেশের পর্যটনশিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

 

"