নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০৬ ডিসেম্বর, ২০২০

স্বেচ্ছাসেবীরাও পাবেন স্বীকৃতি, হবে নীতিমালা

স্বেচ্ছাসেবক দিবসে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, যেকোনো দুর্যোগে, দুঃসময়ে স্বেচ্ছাসেবীরা ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনকল্যাণে অংশ নেন। কিন্তু তাদের এসব কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার মতো দেশে কোনো প্ল্যাটফরম নেই। তাই তাদের স্বীকৃতি দিতে এবং কাঠামোতে আনতে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা (ঘধঃরড়হধষ ঠড়ষঁহঃববৎ চড়ষরপু) করা হবে। এতে দেশ ও মানুষের কল্যাণ হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস-২০২০’ এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ইউএনভি বাংলাদেশ এবং ওয়াটার এইড যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

------
মো. তাজুল ইসলাম বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুঃসময়ে স্বেচ্ছাসেবকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেন। জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন অংশীদারদের স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রমকে মূলধারায় আনা এবং স্বেচ্ছাসেবাকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিতে সহায়ক হবে। এই লক্ষ্যে ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং কমিটি গঠন এবং কমিটির কার্যপরিধি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৫ সালে স্বেচ্ছাসেবকের স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি চালু হয় এবং তখনই বঙ্গবন্ধু তার চিন্তা-চেতনায় স্বেচ্ছাসেবীদের বিষয়ে ভাবেন। কিন্তু পরে জাতীয়ভাবে আর স্বেচ্ছাসেবী নীতিমালা হয়নি।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারি আতঙ্কের মধ্যেও ছাত্র-শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, এনজিওকর্মী এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এটি এ দেশের মানুষের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যারা মহৎ কাজ করেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার মতো কোনো প্ল্যাটফরম নেই তা জানার পর ইউএনভির অনুরোধে একটি জাতীয় নীতিমালা তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশে বিএনসিসি, গার্লস গাইড, স্কাউটসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য ছেলেমেয়ে যুক্ত আছে। এর সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জনপ্রতিনিধিসহ আগ্রহী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে এটি একটি বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে এবং কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত দেশ বিনির্মাণে যে মিশন এবং ভিশন ঠিক করেছেন, এগুলোতে যদি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করা না যায়, তাহলে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হবে।

মন্ত্রী জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা তৈরিতে সবাইকে মত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নীতিমালা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে এটি দেশ ও মানুষের কল্যাণ বয়ে আনে। এ সময় স্বেচ্ছাসেবায় অবদান রাখায় ১৮ স্বেচ্ছাসেবকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকতার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, সুলতানা আফরোজ, সেক্রেটারি ও সিইও, পিপিপিএ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খান এবং জাতিসংঘের বাংলাদেশের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পো।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়