অনলাইন ডেস্ক
  ২৬ নভেম্বর, ২০২০

সাংবাদিকদের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

রাজধানীর খাল যাচ্ছে সিটি করপোরেশনের আওতায়

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খালসমূহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ লক্ষ্যে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, একসময় খালের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের হাতেই ছিল, পরবর্তীতে কোনো একসময়ে রাষ্ট্রপতির আদেশে ঢাকা ওয়াসার হাতে দেওয়া হয়। এখন আমাদের দুজন মেয়র তারা খালের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন কিভাবে কাজ করবে এবং তাদের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিমকে আহ্বায়ক এবং একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সাঈদ উর রহমানকে সদস্য সচিব করে ১২ সদস্যের টেকনিটক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও সচিব থাকবেন। এছাড়াও ঢাকা ওয়াসার চারজন কর্মকর্তা থাকবেন। এই কমিটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে, সেই রিপোর্টের আলোকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমি আগেও বলেছি, সিটি করপোরেশন ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশনের জন্য দায়বদ্ধ। কিন্তু রাষ্টট্রপতির আদেশক্রমে ওয়াসার উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুই সিটির মেয়র চান তারা এটি করলে এটি ভালো করতে পারবেন। ড্রেনেজ সিস্টেমটা সিটি করপোরেশনকে দিতে নীতিগত সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছি। এজন্য কমিটি করেছি, পানিসম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইব্রাহীমকে প্রধান করে ১২ সদস্যবিশিষ্ট কারিগরি কমিটি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য জনবল, যন্ত্রপাতিসহ সবকিছুই সিটি করপোরেশনের কাছে আছে, তাদের সক্ষমতা আছে। আমাদের অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা আছে। কিছু বক্স কালভার্ট করা হয়েছে, এগুলো ২০/৩০ বছর সংস্কার করেনি, ফলে পুরোটাই অকার্যকর হয়ে গেছে। তার ভেতরে মিলিয়ন মিলিয়ন টন বর্জ্য জমা হয়ে এখন সেটা অকার্যকর হয়ে গেছে। সেটা কিভাবে করা যাবে সেটি নিয়ে কারিগরি টিম পর্যালোচনা করবেন যাতে একটা সময়ের ব্যবধানে হস্তান্তর করতে পারি।

রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৃথিবীর যে আধুনিক শহর গড়ে উঠছে সেগুলো করার সময় ইউটিলিটিক্যাল সাপোর্ট দেওয়ার জন্য যেসকল পাইপলাইন স্থাপন করতে হয় এবং সময় সময় ক্যাপাসিটির জন্য পরিবর্তনও করতে হয়। এ কাজটা করার জন্য তারা ডাকটিং করেছে, কিন্তু ঢাকা শহরের ক্ষেত্রে ডাকটিং করা হয়নি। এটার সত্যিকার ম্যাপ খুঁজে পাওয়া খুব কষ্টকর। পানির লাইন কোথা দিয়ে গেছে কেউ জানে না। যে কারণে এই সমস্যায় আমাদের পড়তে হচ্ছে। এ বিষয়ে মেয়রসহ বিশ্বব্যাংকের সাথে বৈঠক হয়েছে কিভাবে আগাতে পারি। এবং নতুন যে শহরগুলো গড়ে উঠছে সেগুলোতে ডাকটিং ফ্যাসিলিটি থাকবে।

মো. তাজুল ইসলাম আরও বলেন, আগেও সিটি করপোরেশনের কাছে জলাবদ্ধতা নিরসনে নিষ্কাশনের দায়িত্ব দিতে চিঠি লিখেছে ওয়াসা, কিন্তু তখন তারা আগ্রহ দেখায়নি। নতুন মেয়ররা এসে এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে আমাদের দেরি হচ্ছে করোনার কারণে। অনেক যন্ত্রপাতি হস্তান্তরের বিষয় আছে, অনেক কালভার্ট নির্মাণ হয়েছে যা সিটি করপোরেশন জানেই না। সিটি করপোরেশনকে সেগুলো জানতে হবে। এটি করতে আমাদের আইননি বিষয়গুলো দেখতে হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম আতিক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান প্রমুখ।

পিডিএসও/ইমন/হেলাল

জলাবদ্ধতা নিরসন,মো. তাজুল ইসলাম,স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়