সম্পাদকীয়

  ২৫ নভেম্বর, ২০২০

দখলদারদের শেকড়সমেত তুলে ফেলতে হবে

একদিকে উচ্ছেদ চলছে, বিপরীতে পুনর্দখলও চলছে অব্যাহত গতিতে; কিন্তু কেন! এ প্রশ্নের জবাবে বলতে হয়, দখলদারদের হাত অনেক দূর পর্যন্ত প্রলম্বিত; ক্ষমতাও অনেক। আর তাদের এই ক্ষমতার উৎস ওপরের দিকে। ওপরের দিকে তাদের এই যোগাযোগ এবং সম্পর্ক তাদের জবাবদিহির বাইরে থাকার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তাই অবৈধ দখলে থাকা জমি উচ্ছেদ করার পর পুনরায় তারা তা দখলে নিয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সাহস দেখাতে পারছেন। টঙ্গী সেতুর উত্তরা অংশের পশ্চিম পাশঘেঁষা প্রায় ১০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে বড় একটি মাছের আড়ত। কিছুদিন আগে যেখান থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল স্থাপনাটি। আড়তটি আগে রাস্তা থেকে ১৫ থেকে ২০ হাতের মধ্যে সীমিত থাকলেও গত কয়েক বছরে দখল বেড়েছে প্রায় ৫০ গুণ। পুরো জায়গাটি নেওয়া হয়েছে নদীর জায়গা ভরাট করে। এই মাছের আড়তটিকে এর আগে কয়েকবার উচ্ছেদ করা হয়েছিল; কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। উচ্ছেদ হওয়ার পর আবার নতুন করে তা দখলে নিয়ে, দখল বাড়িয়ে আবারো তৈরি করা হয়েছে আড়ত।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতা এবং পৈতৃক সূত্রে জমির মালিক দাবি করা কিছু লোক একজন কাউন্সিলরকে সামনে রেখে মাছের আড়তটি পরিচালনা করছেন। সর্বশেষ মার্চ থেকে এপ্রিলে টঙ্গী সেতুর আশপাশে উচ্ছেদ করা হয় অবৈধ স্থাপনা। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, উচ্ছেদের দুই-একদিন পর থেকে এই আড়তটি গড়ে তোলা হয় নতুন উদ্যোগে, আগের চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে। অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিইটিএ) কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও। বলা হচ্ছে, তাদের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে এই চক্রটি। টঙ্গী সেতুর পশ্চিম পাশের আধা কিলোমিটার পর্যন্ত নদীর প্রশস্ততা কমে ৩০ থেকে ৪০ গজে এসে দাঁড়িয়েছে। সেতুর ভাটিতে নদীর প্রশস্ততা ১০০ গজেরও বেশি। ভাটির দিকে তুরাগের সীমানা নির্ধারণ করে টঙ্গী ও দক্ষিণখান অংশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করায় দখল অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে সীমানায় থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গা দখল হচ্ছে বেশ ভালো গতিতেই।

এ চিত্র কেবল টঙ্গীতেই নয়। বাংলাদেশের সর্বত্র। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরে যেন এর মহোৎসব ছিল- এখনো আছে। নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এরই মধ্যে নদীগুলোর ব্যাপারে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। সরকার ঢাকার চারপাশের নদীর হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরানোর জন্য কাজ করছে। বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে বলা হয়, অনেকে মামলার কাগজপত্র দেখিয়ে জায়গা ছাড়তে চান না। এসব মামলার যে কোনো ভিত্তি নেই সেটা মামলাকারী ব্যক্তিরাও জানেন। তুরাগের পুরোনো নকশা দেখলেই বোঝা যায় কার কোথায় অবস্থান। তারাও এ ব্যাপারে কোর্টের শরণাপন্ন হবেন।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই দখলবাজদের কারণে মহানগর আজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দূষণে অর্জন করেছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্ব। এখান থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় আমাদের নদ-নদী ও জলাশয়কে রক্ষা করা। তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া। মহানগর ঢাকাকে দূষণমুক্ত করতে এখানকার নদী এবং খাল উদ্ধার করে তার স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আমরা মনে করি, বৃহত্তর কিছু অর্জনের জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থ পরিত্যাগ করাই আজ সময়ের দাবি। দখলবাজদের দিকে না তাকিয়ে রাষ্ট্র ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণের দিকে দৃষ্টি ফেরানো হবে প্রকৃত কাজ। সে ক্ষেত্রে সোজা পথে না হলে বাঁকা পথেই তা সমাধা করতে হবে। সময়ক্ষেপণ না করে কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে একটু বাড়তি মনোযোগী হতে হবে। আশা করি তারা সে পথেই হাঁটবেন এটুকুই প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল

দখলদার,শেকড়,উচ্ছেদ,অবৈধ দখল,সম্পাদকীয়
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়