আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্ত হচ্ছে গরু ও লাঙল দিয়ে হালচাষ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:১৫

মল্লিক মোহাম্মদ জামাল

বরগুনা জেলার উপজেলাগুলোতে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় আগের মতো এখন আর লাঙল দিয়ে গরু টানা হালচাষ দেখা যায় না। আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে হালচাষের পরিবর্তনে এখন ট্রাক্টর অথবা পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করা হয়। এক সময় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে কৃষক গরু ও মহিষ পালন করতো হাল চাষ করার জন্য। আবার কিছু মানুষ গরু মহিষকে দিয়ে হালচাষকে পেশা হিসেবেও নিত। নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হাল চাষ করে তাদের সংসারের ব্যয়ভার বহন করত। হালের গরু বা মহিষ দিয়ে দরিদ্র মানুষ জমি চাষ করে ফিরে পেত তাদের পরিবারের সচ্ছলতা। আগে দেখা যেত কাকডাকা ভোরে মসজিদের মুয়াজ্জিনের আযান শুনে কৃষক তার গরু, লাঙল, জোয়াল নিয়ে মাঠে বেরিয়ে পড়তো। এখন আর চোখে পড়ে না গরুর লাঙল দিয়ে চাষাবাদ। জমি চাষের প্রয়োজন হলেই অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চলাচ্ছে চাষাবাদ। তাই কৃষকরা এখন পেশা বদল করে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে গরু দিয়ে হাল চাষ।

কথা হয় স্থানীয় এক কৃষকের সাথে। তিনি বলেন ছোটবেলায় হাল চাষের কাজ করতাম। বাড়িতে হাল চাষের বলদ গরু ছিল। চাষের জন্য দরকার হত গরু বা মহিষ, কাঠের তৈরি লাঙল, জোয়াল, মই, দড়ি বাঁশের কুঞ্চি দিয়ে তৈরি গরু তাড়ানোর লাঠি, গরুর মুখে ঠুসি ইত্যাদি। আগে গরু দিয়ে হাল চাষ করলে জমিতে ঘাস কম হতো, ফসল ভালো হতো, জমির উর্বরতা থাকতো।