বিসিএসআইআরের গবেষণা

দেশে দ্রুতগতিতে রূপ পাল্টাচ্ছে করোনা

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে রূপ পাল্টাচ্ছে করোনাভাইরাস। জিনোম সিকোয়েন্সিং করে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ-বিসিএসআইআর।

রোববার বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) মিলনায়তনে বিসিএসআইআর জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির কোভিড ১৯-এর জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রতিবেদন অবহিতকরণ সভা বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আফতাব আলী শেখ এ তথ্য জানান।

অধ্যাপক ডা. আফতাব আলী শেখ জানান, করোনাভাইরাস ডিজিজ-১৯ সংক্ষেপে (কোভিড-১৯) জিনগত বৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করার জন্য সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের ২৬৩টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ও ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়। এ নমুনা চলতি বছরের ৭ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়।

দেশের আট বিভাগের ৩০০টি ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং তথ্য বিশ্লেষণ করে বিসিএসআইআর বলেছে, বিশ্বে নমুনা প্রতি মিউটেশন হার ৭ দশমিক ২৩, তবে বাংলাদেশে তা ১২ দশমিক ৬০। ফলে সার্স কোভিড ২ ভাইরাসটি প্রতিনিয়ত তার বৈশিষ্ট্য বদলাচ্ছে এখানে। সব নমুনাতেই ৪টি মিউটেশনের পুনরাবৃত্তি পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল ভাইরাসের সংক্রমণ, মিউটেশনের হার, জিনগত বৈচিত্র্য, নন-সিনোনিমাস মিউটেশন এবং জিনোমিক ফাইলোজেনি পর্যবেক্ষণ করা। গবেষণার ফলকে কোভিড-১৯ মহামারি রোধে কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যবহার করা।

এতে জানানো হয়, স্পাইক প্রোটিনের জিনে ১০৩টি নিউক্লিওটাইড মিউটেশনের মধ্যে ৫৩টি নন-সিনোনিমাস অ্যামিনো এসিড প্রতিস্থাপন ঘটে যার মধ্যে পাঁচটি স্বতন্ত্র যা বিশ্বে আর কোথাও নেই। সংগৃহীত নমুনায় শতভাগ ক্ষেত্রে ৪টি মিউটেশন পুনরাবৃত্তি লক্ষণীয়। গবেষণার ফল প্রিন্ট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি রিসার্চ পেপার ও শিগগিরই আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হবে।

পিডিএসও/হেলাল