মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

  ২৪ এপ্রিল, ২০২৪

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা

ঘিওরে ৩৫ কোটি টাকার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ঘিওরে কালীগঙ্গা নদীর ওপরে নির্মাণের দুই বছরেও সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক। সম্প্রতি তোলা ছবি: প্রতিদিনের সংবাদ

মানিকগঞ্জের ঘিওরের কালীগঙ্গা নদীর ওপরে ৩৬৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজে আসছে না সরকারের ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি। শুধুমাত্র সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের অভাবে দুই বছর ধরে কালীগঙ্গায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর কালীগঙ্গা নদীর ওপর ৩৬৫ মিটার দৈর্ঘের সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি পায় অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডারর্স এবং মেসার্স কহিনুর এন্টাইপ্রাইজ। সংযোগ সড়ক ছাড়া ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারিতে সেতুটির নির্মাণ শেষ হয়।

এরপর সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৩ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত। প্রথমার্ধে সেতু নির্মাণের ব্যয় ৩০ কোটি থাকলেও পরবর্তীতে সংযোগ সড়ক ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ৫ কোটি বাড়ানো হয়। এরপর সেতু ও সংযোগ সড়কসহ যাবতীয় উন্নয়নের কাজ ব্যয় ধরা হয় ৩৫ কোটি ৬০ লাখ ৪৫৪ হাজার টাকা। কিন্তু সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের সময় বাড়ানো হলেও নির্ধারিত সময়ের দুই বছর পার হলেও ব্যবহারের উপযোগী হয়নি সেতুটি।

স্থানীয় মির্জাপুর এলাকার কৃষক খোরশেদ আলম বলেন, ‘আগের মতো নৌকায় করে খেতের ফসল আনতে হচ্ছে। আমাগো মনের আশা মনেই রইল। তাহলে সরকার এত টাকা দিয়া সেতু বানাইলো কেন?’


  • ৩৬৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু
  • সেতু ও সংযোগ সড়কসহ যাবতীয় উন্নয়নের ব্যয় ধরা হয় ৩৫ কোটি ৬০ লাখ ৪৫৪ হাজার টাকা
  • সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী না হওয়ায় বাসিন্দাদের ১৫ কিলোমিটার ঘুরে জেলা শহরে যেতে হচ্ছে
  • ইতিমধ্যে ভূমির মালিকদের ৭ ধারা নোটিশ করা হয়েছে বলে জানান ডেপুটি কালেক্টর

আরেক কৃষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সেতুর পাশে আমার দেড়শতাংশ কৃষি জমি আছে। সেতুর রাস্তার জন্য আমার জমি নিতে চাইছে। দীর্ঘদিন ধরে খালি শুনছি আমাগো জমি অধিগ্রহণ করা হবে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় জমিতে আগের মতো ইরি ধান আবাদ করছি।’

স্থানীয় বালিয়াবাধা এলাকার হাবিবুর রহমান জানান, সেতুটি ব্যবহার করতে পারলে সেতুর আশপাশের অন্তত ৫০টি গ্রামের বাসিন্দারা উপকৃত হতো। সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী না হওয়ায় তাদের ১৫ কিলোমিটার ঘুরে জেলা শহরে যেতে হচ্ছে।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মাসুদ মিয়া জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার জমির মালিকদের বাঁধার মুখে পড়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। এখন সড়কের জায়গা বুঝে পেলেই কাজ করতে সময় লাগবে ৪-৫ মাস।

ঘিওর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া এ বিষয়ে জানান, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। দ্রুতই ভূমি জটিলতা কেটে যাবে এবং সেতুর সংযোগ সেতু নির্মাণ শুরু হবে। ইতিমধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য খোঁজ খবর নিচ্ছে।

ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে মানিকগঞ্জ রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর এল এ শাখার সিনিয়র সকহারী কমিশনার মামুনুর রশিদ জানান, সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান। ইতিমধ্যে ভূমির মালিকদের ৭ ধারা নোটিশ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, জেলা প্রশাসক দ্রুত ভূমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিবেন।

পিডিএস/আরডি

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মানিকগঞ্জ
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close