পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

  ১৭ এপ্রিল, ২০২৪

পেকুয়ায় অভিযোগ

দশ লাখ ঘনফুট জব্দ বালু বিক্রি করলেন রেঞ্জ কর্মকর্তা 

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল হকের বিরুদ্ধে পাহাড়ের জব্দ করা বালু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

টইটংয়ের বনকানন এলাকার মিজান জানান, ২০২০ সালে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা সংগ্রামের জুমে স্থানীয় আবদুল জলিল ও রমিজ পাড়া এলাকার মুহাম্মদ শাকেরের নেতৃত্বে পাহাড় কেটে দুটি বিশাল বালুর স্তুপ তৈরি করে। ওই সময় উপজেলা প্রশাসন তা জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে প্রায় দশ লাখ ঘনফুট বালু জব্দ করে বনবিভাগের জিম্মায় দেন। সাড়ে তিন বছর পর বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল হক জনৈক শাকের ও আবদুল জলিলকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে এ বালু বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

টইটং বনকানন এলাকার বাসিন্দা জাকের হোসেন বলেন, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল হক ওই জব্দ করা বালু ২০ লাখ টাকায় একটি সিন্ডিকেটকে বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন। পরে দরদামে মিল না হওয়ায় এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে পারায় তখন বিক্রি করা হয়নি। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিব ওই একই সিন্ডিকেটকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বালুগুলো বিক্রি করে দেন।


  • প্রায় দশ লাখ ঘনফুট বালু ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি
  • তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন বনবিভাগ কর্মকর্তা

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল বলেন, পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংসকারীরা বালু উত্তোলন করবে। আবার সে বালু জব্দ করে চড়া দামে তাদের বিক্রি করবে বনবিভাগ। এতে প্রকাশ পায় পরিবেশ ও পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে গেলেও বনবিভাগের কিছু যায় আসে না। বন, পরিবেশ-প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পাহাড়-প্রকৃতি ধ্বংসের ইন্দনদাতা যারাই হোক তাদের চিহ্নিত করে আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিযোগ অস্বীকার করে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল হক বলেন, ‘এগুলো স্থানীয় কিছু বালু ব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্র।’ বালুর স্তুপগুলো কোথায় গেল এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারব না। আমাকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি নিতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জানতে পেরেছি টইটং এর বনাঞ্চলে পাহাড় কাটা তিনটি বালুর বড় বড় স্তুপ ছিল। সরেজমিনে দেখতে পেয়েছি একটি। বাকি দুটি কোথায় গেল তা আমারও প্রশ্ন। তবে বিষয়টি যেহেতু বনবিভাগের সেহেতু আশা করি তারাই এটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বনাঞ্চলের কোন সম্পদ কারো বিক্রি করার অধিকার নাই। যদি কেউ এমন কাজ করে থাকে তাহলে তা হবে সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিডিএস/আরডি

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কক্সবাজার,পেকুয়া
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close