আরিফুল ইসলাম জিমন, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)

  ০২ এপ্রিল, ২০২৪

ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

অ্যাম্বুলেন্স চালককে বদলি, চালকের আসনে মালি

ছবি: প্রতিদিনের সংবাদ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সের দায়িত্ব বুঝে নিতে চাওয়ায় পদ শূন্য করে চালককে বদলি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে বাগানের মালিকে দিয়ে ওই অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাজ করানো হচ্ছে।

জানা গেছে, ৭ বছর মামলা সংক্রান্ত জটিলতার পর চলতি বছরের গত ১১ মার্চ ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুনরায় অ্যাম্বুলেন্সচালক হিসেবে যোগ দেন শাহিনুর ইসলাম খোকন। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালত তার পক্ষে মামলার রায় দেন। রায়ের কপি সংগ্রহ করে দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে ‘সিএস’ ওই চালককে ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দিতে গেলে অ্যাম্বুলেন্সচালক খোকনকে ডোপ টেস্ট রিপোর্ট জমা দিতে বলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার। পরে চালক খোকন ডোপ টেস্ট রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেন।

এদিকে যোগ দেওয়ার কয়েকদিন পরও চালক খোকন অ্যাম্বুলেন্সের চাবি বুঝে না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে (ইউএইচএফপিও) বিষয়টি অবগত করেন। তবে বাগান মালি মাজেদের সঙ্গে সমঝোতা করে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেন তিনি। এ নিয়ে জানতে চাইলে তাকে গাড়ি না চালিয়ে বসে থেকে বেতন নিতে বলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্ত চালক না থাকায় ২০০১-১০ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাগান মালি মাজেদ চালান। অপরদিকে ২০১৭ সালের ১৪ জুলাই থেকে ফৌজদারি মামলার কারণে নিয়োগকৃত অ্যাম্বুলেন্সচালক শাহিনুর ইসলাম খোকন সাময়িকভাবে বরখাস্ত ছিলেন। এ সময় তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূর নেওয়াজ আহমেদ ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর জনস্বার্থে একটি অফিস আদেশে বাগান মালি মাজেদকে সাময়িকভাবে রোগী পরিবহনের নির্দেশ দেন।

এদিকে ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর ঘোড়াঘাটে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার যোগ দেওয়ার পর পরের বছর (২০২২) ১৮ ডিসেম্বর আরেকটি নতুন হাইস মডেলের অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ পান। পরে অ্যাম্বুলেন্স দুটি চালু রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা সিভিল সার্জনের কাছে একটি চিঠি দেন।


  • ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালান বাগান মালি মাজেদ
  • গতবছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালত চালক শাহিনুরের পক্ষে মামলার রায় প্রদান করেন
  • অভিযোগ অস্বীকার মালি মাজেদের। অ্যাম্বুলেন্স চালক খোকনকে বদলির ব্যাপারে কোনো হাত নেই জানান কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার

এদিকে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি বুঝে নেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর যোগদানের ১৩ দিনের মাথায় চলতি বছরের ২৪ মার্চ রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এ বি এম আবু হানিফ স্বাক্ষরিত একটি আদেশে অ্যাম্বুলেন্সচালক শাহিনুর ইসলাম খোকনকে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন অফিসে বদলি করা হয়।

জানতে চাইলে চালক শাহিনুর রহমান খোকন মোবাইল ফোনে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘যোগদানের পর আ্যাম্বুলেসের চাবি বুঝে না পাওয়ায় ইউএইচএফপিও স্যারের কাছে অভিযোগ করলে তিনিও মালি মাজেদ হোসেনের সঙ্গে সমঝোতা করতে বলেন। না হলে বসে থেকে বেতন নিতে বলেন।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাজেদের পদ মালি হলেও নিজে কাজও করেন না। ফলে কাজগুলো অন্য লোক দিয়ে করানো হয়। দরিদ্র রোগীদের সহায়তায় সরকারিভাবে প্রতি কিলোমিটারে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ১০ টাকা নির্ধারিত হলেও দ্বিগুণ টাকা নেন তিনি। এই টাকার অংশ উপজেলা স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পকেটেও যায়।

জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেন বাগান মালি মাজেদ। তিনি বলেন, ‘আমি নির্ধারিত ভাড়ার ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি নিয়েছি, এর বেশি না।’ তবে কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাযোসের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সচালক খোকনকে বদলির ব্যাপারে আমার কোনো হাত নেই। আমি তাকে গাড়ির চাবি দেবো না, এমনটা বলিনি। তাকে বলেছিলাম, কিছুদিন বাগান মালি মাজেদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলতে।’ তবে খোকনের বদলিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তেমন কোনো সমস্যা হবে না বলেও দাবি করেন জানান স্বাস্থ্যের এ কর্মকর্তা।

পিডিএস/জেডকে

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
দিনাজপুর,ঘোড়াঘাট,অ্যাম্বুলেন্স,চালক,বদলি,মালি
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close