কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

  ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়

৪ টন সরকারি বই বিক্রি, অধ্যক্ষকে শোকজ

জব্দকৃত ৪ টন বই। ছবি: প্রতিদিনের সংবাদ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি বিনামূল্যের বই ফেরিওয়ালাদের কাছে কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মহিপুর থানার মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ ট্রাকে থাকা প্রায় ৪ টন বই জব্দ করেন। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৫ লাখ টাকা ধার্য্য করা হয়।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক মাধ্যমিক স্তরের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি, ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, ক্যারিয়ার শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, চারুপাঠ, কৃষি শিক্ষা, আনন্দপাঠ, গার্হস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই ফেরিওয়ালার কাছে বিক্রি করেছেন।

আরো জানা যায়, উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর সালেহীয়া আলিম মাদরাসার প্রধান শিক্ষক এ কে এম আবুবকর সিদ্দিক ও বাংলা প্রভাষক হাসান এবং অধ্যক্ষের ছেলে অফিস সহকারী মিরাজ রবিবার রাতে গোপনে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রণীত ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ের সরকারি বিনামূল্যের বই কেজি দরে ফেরিওয়ালার কাছে বিক্রি করেন।


  • বই বিক্রির সঙ্গে আরো শিক্ষক জড়িত বলে স্বীকার অধ্যক্ষের
  • পাঁচ দিনের মধ্যে শিক্ষককে নোটিশের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা
  • ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক

ফেরিওয়ালা কাওছার শেখ জানান, তিনি বইগুলো মোয়াজ্জেমপুর ছালেহিয়া আলিম মাদরাসা থেকে ক্রয় করেছেন।

তামিম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সন্ধ্যার পরে মাদরাসার সামনে একটি ট্রাক ও কয়েকজন লোককে দেখতে পান তিনি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় কয়েকজনকে খবর দেন তিনি। এ সময় ট্রাকের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত বিদ্যালয় মাঠ ত্যাগ করে। পরে এক কিমি দূরে গিয়ে ট্রাকসহ তাদের আটক করেন স্থানীয়রা।

সরকারি বই বিক্রির বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবুবকর এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি একা নই স্কুলের অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে রেজুলেশন করে বইগুলো বিক্রি করেছি।’ সরকারি বই বিক্রি করা বৈধ কিনা? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।

কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা এ বিষয়ে বলেন, ‘বিক্রি করা বইগুলো জব্দ করেছি। অধ্যক্ষকে (আবুবকর সিদ্দিক) কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিনের মধ্যে শিক্ষককে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পরে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) মরিয়ম বেগম বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

পিডিএস/আরডি

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
পটুয়াখালী,কলাপাড়া
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close