চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

  ০১ ডিসেম্বর, ২০২৩

সাত মাস ধরে বন্ধ বীর নিবাসের কাজ

ছবি: প্রতিদিনের সংবাদ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্প ‘বীর নিবাসের’ কাজ বন্ধ রয়েছে। ঘরের কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুবিধাভুগীরা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার বলার পরও কাজ করছেন না।

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০২১-২০২২ অর্থবছরে (২য় পর্যায়) চিলমারী উপজেলায় অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩৫টি বীরনিবাস নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ৮ হাজার ২৬৬ টাকা। ৫টি ঘরকে একটি প্যাকেজ আকারে মোট ৭টি প্যাকেজের মাধ্যমে ৭জন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যেমে এসব কাজ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক ঘরের কাজও শেষ হয়েছে। কিন্তু ৬ নম্বর প্যাকেজের আওতায় উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নে ৫টি ঘর নির্মাণে কিছু কাজ করার পর গত সাত মাসেও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এই সব নির্মাণ কাজের দায়িত্বে আছেন মো. রেজওয়ান আলী চিলমারী, কুড়িগ্রাম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রমনা মডেল ইউনিয়নের রমনা খামার এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইছহাক আলীর বরাদ্দ প্রাপ্ত বীরনিবাসের কাজ ৭ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ছাদে রড কম দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই মুক্তিযোদ্ধা।

অন্যঘর গুলোয় দেখা গেছে, নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। বেশিরভাগ বীর নিবাসের নিলটন ও দেওয়াল পর্যন্ত ইট গেঁথে কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে গেছে ঠিকাদারের লোকজন। এতে দেয়ালে নোনা ধরা সহ খোসে পড়ছে ইট পলেস্তারা। মুক্তিযোদ্ধা পরিবার অনেকেই নতুন ঘরের আশায় পুরাতন বসতঘর ভেঙে ফেলেন। সময় মতো কাজ শেষ না হওয়ায় টিনের চালা কিংবা অন্যের ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের।

রমনা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার ঘরের কাজ প্রায় ৮ মাস থেকে চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত শেষ হচ্ছে না। তাছাড়া ঘর নির্মাণে নিম্ন মানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। বীর নিবাসের জায়গার জন্য আমার পুরাতন বসতঘর ভেঙে ফেলেছি। আমার ছেলের ঘরে থাকতেছি।

রমনা খামার এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইছহাক বলেন, সরকার আমাকে একটা বীর নিবাস বরাদ্দ দিয়েছে। ৭ মাস আগে আমার বসতভিটায় ওই বীর নিবাসের কাজ শুরু হয়। কিন্তু ৬ মাস ধরে নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদারের কোন খোঁজ খবর পাচ্ছি না।

ধীরগতি কেনো জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রেজওয়ান আলী বলেন, ‘একজনকে কাজ গুলো দিয়েছিলাম, সে কাজ শুরু না করলে আমি কাজ শুরু করব।’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে দ্রæত কাজ শেষ করার জন্য।

পিডিএস/এস

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কুড়িগ্রামের চিলমারী,'বীর নিবাস',কাজে অনিয়ম
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close