মীর আসলাম (চট্টগ্রাম) রাউজান

  ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩

পূর্ব রাউজানে আশ্রয়ন প্রকল্পের অর্ধেক ঘরে তালা

চট্টগ্রামের পূর্ব রাউজানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। সম্প্রতি তোলা ছবি

রাউজানে উপজেলার পূর্ব রাউজানে মুজিব বর্ষে ভূমিহীনদের দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারের অর্ধের বেশি ঘরের দরজা তালাবদ্ধ। এখানে জমির দলিলসহ ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল ১৮০ পরিবারকে।

রাউজান সদর ইউনিয়নে পূর্ব রাউজান আশ্রয়ন প্রকল্পে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় ৭০টি ঘরের দরজায় তালা ঝুলছে। এখানে যেসব পরিবার সংসার পেতেছে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘরের চাবি বুঝে নেওয়ার পর অনেকেই ছোট খাট আসবাবপত্র ঘরে ডুকিয়ে দখল নিলেও পরবর্তীতে অনেকেই আর এখানে বসবাস করতে আসেনি। এখানে বসবাসকারীদের মধ্যে ১২২ নম্বর ঘরের বাসিন্দা আবসার সিকদার অভিযোগ করেছেন, ভুমিহীন, গৃহহীন নয় এমন ব্যক্তিরাও এখানে ঘর পেয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসন বসতিকারীদের জন্য সুপেয় পানির উৎস সৃষ্টির করতে স্থাপন করা হয়েছিল চারটি গভীর নলকুপ। ওসব নলকুপের মধ্যে এখন সচল আছে মাত্র দু’টি।

উপহারের ৪৬ নং ঘরে বসবাসকারী বাছু আকতার বলেছেন, দেড় কিলোমিটারের মধ্যে নেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মক্তব,মন্দির,হাট বাজার। তাদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া হচ্ছে না। এসব সুবিধা না পেয়ে অনেক পরিবার এখানে থাকতে চায় না। তালাবদ্ধ ঘরে কেউ কেউ মাঝে মধ্যে এসে তালা খুলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার চলে যায়। এই নারীর আরো অভিযোগ ভুমিহীণ, গৃহীন হিসাবে ঘর পাওয়া অনেকেই আত্মীয় স্বজন পরিচয়ে অন্যদের কাছে উপহারের ঘর হস্তান্তর করেছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস সামাদ সিকদারে বলেন, বরাদ্দ দেওয়া ঘর অন্যের কাছে হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। এমন অভিযোগের সত্যতা পেলে ওই বরাদ্দ বাতিল করা হবে। তালাবদ্ধ ঘর প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তার ব্যাখ্যার ওই আশ্রয়ন প্রকল্পটি লোকালয় থেকে কিছুটা দুরে। প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, এসব সুযোগ সুবিধা না পেয়ে হয়ত কেউ কেউ পরিবার নিয়ে ঘরে উঠতে দেরি করছে।

উপজেলা প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তা (নির্বাহী কর্মকর্তা) জানান, ওই আবাসন প্রকল্পের কাছে আরো ঘর হচ্ছে, সেসব ঘর তৈরী হলে আরো অনেক ভুমিহীন, গৃহীনকে পুনর্বাসিত করা হবে। সেখানে করা হবে স্কুল, মসজিদ মক্তব, গ্রোথ সেন্টার। এসব সমস্যা কেটে গেলে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘরের বাসিন্দাদের জীবন মান উন্নত হবে। তারা সুখে থাকবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
পূর্বরাউজান,আশ্রয়ন প্রকল্প
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close