গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ

  ০২ ডিসেম্বর, ২০২২

সিরাজগঞ্জে কুমড়ার বড়ি তৈরির ধুম

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

‘কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা/সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা।/আর আমি ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি/খোকা তুই কবে আসবি, কবে ছুটি।’ কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘মাগো ওরা বলে’ নামে একুশের বিখ্যাত কবিতায় যে ডালের বড়ির কথা বলা হয়েছে, সেটা গ্রামীন জীবনে খুবই জনপ্রিয় খাবার। কুমড়া ও ডাল দিয়ে তৈরি বলে অনেকে কুমড়ার বড়ি বলে। শীত শুরুর দিকে এই কুমড়ার বড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়। ঠিক এই সময়ে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও শাহজাদপুরে কুমড়ার বড়ি তৈরির ধুম পড়েছে। ব্যস্ততা বেড়েছে কুমড়ার বড়ি তৈরির কারিগরদের।

শীতের মৌসুমে কুমড়ার বড়ির কদরটা একটু বেশি। এ অঞ্চলে সুস্বাদু কুমড়ো বড়ির চাহিদা রয়েছে দেশ জুড়ে। তাই প্রতি বছরের মতো সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে কুমড়ার বড়ি তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, গ্রামের অনেক নারী নিয়োজিত হয়েছেন কুমড়ার বড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তারা এই কাজ করছেন অনেক দিন হল। শাহজাদপুরসহ তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের নওগাঁ গ্রামের প্রায় ৪০-৫০টি পরিবার কুমড়া বড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

সরেজমিনে নওগাঁ গ্রামে দেখা যায়, সারি সারি কুমড়ার বড়ি তৈরি করে রোদে শুকাতে দেওয়া হয়েছে। নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও এ কাজে হাত লাগিয়েছেন। সাধারণত শীতকালেই কুমড়া বড়ির চাহিদা বেশি থাকে। তবে সারা বছরই তৈরি হয় কুমড়ার বড়ি।

নওগাঁ গ্রামের ভাংশিং পাড়ার আবদুল হামিদ জানান, কুমড়ার বড়ি তৈরির ব্যবসায়ী পরিবারগুলো প্রথম অবস্থায় তেমন সচ্ছল ছিল না। এখন এই ব্যবসা করে তারা অনেকটাই সচ্ছল অবস্থানে এসেছেন। আগে সনাতন পদ্ধতিতে বড়ি তৈরি করা হত। তখন সন্ধ্যায় ডাল ভিজিয়ে রেখে পরের দিন শিলপাটায় বেটে বড়ি তৈরি করা হত। কিন্তু আধুনিকতার ছোয়ায় এখন মেশিনের মাধ্যমে কুমড়ার বড়ি তৈরির ডাল ফিনিশিং করা হয়।

কুমড়ার বড়ি ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ জানান, হাটবাজারে কুমড়ার বড়ি বর্তমানে খুচরা ২৫০-৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে তিনি আশা করছেন আর কয়েক দিন পর আরও দাম বাড়বে। কারণ এ বছর ডালের দাম বেশি, তাই কুমড়ার বড়ির দামও বেড়েছে। তাড়াশ উপজেলার কুমড়ার বড়ির কারিগর হাসনাহেনা জানান, অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলের কুমড়ার বড়ি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। বিশেষ করে রাজধানিতে এর চাহিদা রয়েছে বেশি।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা জানান, এ অঞ্চলের কুমড়ার বড়ির কদর রয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এই কুমড়া বড়ি তৈরী করে অনেক অস্বচ্ছল পরিবারে আজ স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। প্রয়োজনে এদের সহায়তা প্রদানের কথা জানান তিনি। তিনি আরও জানান এই এলাকায় পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাই বেশি কাজ করে চলেছেন।

পিডিএসও/এমএ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সিরাজগঞ্জ,কুমড়ার বড়ি
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close