জুয়েল রানা লিটন, নোয়াখালী প্রতিনিধি

  ০৭ ডিসেম্বর, ২০২১

রাজাকারদের পতন, এই দিনে মুক্ত হয়েছিল নোয়াখালী জেলা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

৭ ডিসেম্বর আজ। নোয়াখালী মুক্ত দিবস। মুক্তিসেনারা এইদিন জেলা শহরের মাইজদি পিটিআই’তে রাজাকারদের প্রধান ঘাঁটির পতন ঘটিয়ে নোয়াখালীর মাটিতে উড়িয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় পতাকা। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর, গণ কবরগুলি আজও সংরক্ষিত সংরক্ষিত হয়নি। স্মৃতিগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

দখলদার বাহিনী ও রাজাকাররা ১৯৭১ এর বিভিন্ন সময়ে জেলা শহরের শ্রীপুর, সদরের রামহরিতালুক, গুপ্তাংক, বেগমগঞ্জের কালা পোল, কুরিপাড়া, গোপালপুর ও আমিশাপাড়ায় নির্বিচারে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এ সময় হায়নাদাররা গুলি ও পুড়িয়ে হত্যা করে দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুকে। গান পাউডার দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে পাক হানাদার ও রাজাকাররা মেয়েদের ও বুদ্ধিজীবিদের ধরে নিয়ে জেনারেল হাসপাতালের উত্তর পাশে ভবন, যা টর্চার সেল নামে পরিচিত। এ ক্যাম্পে আটকে রাখে পাশবিক নির্যাতন করে ও পরে গুলি করে হত্যা করে ভবনের পিছনে পুতে রাখত।

মুক্তিযোদ্ধারা দেশের অভ্যন্তরে ও ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করে। কোম্পানীগঞ্জের বামনী, তালমাহমুদের হাট, ১২ নং স্লুইস গেইট, সদরের ওদারহাট, করমবক্স, বেগমগঞ্জের ফেনাকাটা পুল, রাজগঞ্জ, বগাদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা।

নোয়াখালী মুক্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে ৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে মাইজদী পিটিআই ও বেগমগঞ্জ টেকনিক্যাল হাইস্কুল ক্যাম্প ছেড়ে কুমিল্লা সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যেতে থাকে পাকিস্তানি মিলিটারিরা ও মিলিশিয়ারা। এ সময় বেগমগঞ্জ-লাকসাম সড়কের বগাদিয়া ব্রিজ অতিক্রম করতেই সুবেদার লুৎফুর রহমান ও শামসুল হকের নেতৃত্বাধীন মুক্তি বাহিনীর অসংখ্য পাক সেনা ও মিলিশিয়া নিহত হয়।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে অন্ধকার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্প ছেড়ে পালাতে থাকে রাজাকাররা। এ সময় বিপরীত দিক থেকে গুলি বন্ধ হলে মুক্তিযোদ্ধারা ক্যাম্পের ভেতরে গিয়ে দেখতে পান সেখানে ১০-১২ জন রাজাকারের লাশ পড়ে আছে। আরো কয়েকজন রাজাকার ধরা পড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে। এভাবে ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় নোয়াখালী জেলা।

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর, গণকবরগুলি আজও সংরক্ষিত হয়নি। বিশেষ করে মাইজদি পিটিআই হানাদারদের ক্যাম্পে অত্যাচার ও গুলি করে মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতাকামীদের হত্যার পর জেনারেল হাসপাতালের পিছনে গর্ত করে পুঁতে ফেলত, তাদের কবরগুলি সংরক্ষিত হয়নি।

নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ৭ ডিসেম্বর দিনটি পালন করবে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিজয়মেলা কমিটি, সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোট। এ উপলক্ষে মাইজদি পিটিআই সংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধের গান ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
১৯৭১,পাক হানাদার বাহিনী,রাজাকার,মাইজদি পিটিআই,নোয়াখালী
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close