আব্দুল বাছিত বাচ্চু, মৌলভীবাজার

  ০৬ অক্টোবর, ২০২২

মৌলভীবাজারের চাতলাপুরে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের পরিকল্পনা

সম্ভাব্য যাচাইয়ে সিনিয়র বাণিজ্য সচিবের পরিদর্শন

ভারতে রপ্তানি আয় বাড়াতে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও অভিবাসন কেন্দ্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। সেই লক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এখন চলছে এর সম্ভাব্যতা যাচাই বাছাই। বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র বানিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ মঙ্গলবার (০৪ অক্টোবর) এই শুল্ক স্টেশন পরিদর্শন করেন। দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর করতে সচিবের এই পরিদর্শন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশ স্বাধীনের আগ থেকেই মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর সীমান্তে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও অভিবাসন কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। সীমান্তের ওপারে রয়েছে ভারতের কৈলাশহর হয়ে আগরতলা। প্রথমে এই সীমান্ত হয়ে বৈধ পথে দুই দেশে লোকজন পারাপার শুরু হয়। পরে শুরু হয় পণ্য আমদানি রপ্তানি। বর্তামানে ভারতে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক দ্রব্যাদি, মাছ শুটকি সিমেন্টসহ কয়েকটি পণ্য ভারতে যায়। পাশাপাশি ভারত থেকে সাতকরা আদা সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য বাংলাদেশে আসে।

দেশীয় রপ্তানিকারকরা জানান, এই স্থল শুল্ক স্টেশন হয়ে আমদানির চেয়ে ভারতে রপ্তানিপণ্যই বেশী যায়। অবশ্য যোগাযোগ ও অবকাঠামো সমস্যা বিদ্যমান ছিলো অনেকদিন। এমনকি বাংলাদেশি পণ্যবাহী গাড়িগুলো সীমান্তে আসার পর প্রথমে মালামাল বাংলাদেশ জিরো পয়েন্টে আনলোড করা হতো। পরে ভারতীয় ট্রাক এসে সেসব পণ্য বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তর থেকে নিয়ে যেতো। ফলে বাড়তি অর্থ আর সময় ব্যয় করতে হতো ব্যবসায়ীদের। চরম ভোগান্তির শিকার হতেন আমদানি রপ্তানিকারকেরা। যেকারণে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও অভিবাসন কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা।

আমদানি রপ্তানিকারক পার্থ চৌধুরী প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে গত এপ্রিল থেকে এই স্থল শুল্ক স্টেশন হয়ে সবধরনের পণ্যদ্রব্য ভারতে সরাসরি রপ্তানি শুরু হয়। বাংলাদেশি পণ্যবাহী ট্রাক/ট্যাঙ্কলরিগুলো সরাসরি ভারতে প্রবেশ করতে শুরু করে। পাশাপাশি ভারতীয় পণ্যবাহী গাড়িগুলোও সরাসরি বাংলাদেশে আসছে। পাশাপাশি গত আগস্ট থেকে ভারতের আসাম মেঘালয় থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কগুলো যাওয়া আসা শুরু হয়। এছাড়া দুর্গাপূজার আগে ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হলে এই স্থল শুল্ক স্টেশন হয়ে প্রায় সাড়ে ৩৮ হাজার কেজি ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারতে তেলবাহী ট্যাঙ্ক যাওয়া শুরু হওয়ার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর করার বিষয়ে নড়েচড়ে বসে। এরই ধারাবাহিকতায় চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর করার সম্ভাব্যতা যাছাই বাছাই শুরু হয়। যে কারণে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপণ কান্তি ঘোষ মঙ্গলবার চাতলাপুর চেকপোস্ট পরিদর্শন করেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান খোন্দকার প্রতিদিনের সংবাদকে জানান সিনিয়র বাণিজ্য সচিব তপণ কান্তি ঘোষ মঙ্গলবার সকালে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও অভিবাসন কেন্দ্র যান। তিনি সেখানে প্রায় ২ ঘণ্টা অবস্থান করেন।

এ সময় তিনি অভিবাসন কেন্দ্রের বিদ্যমান পরিস্থিতি ও সার্বিক কার্যক্রম বিষয়ে খোঁজ খবর নেন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দর করার বিষয়ে কী কী করা যায় তা জেনে যান।

পরিদর্শনকালে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ জাহিদ আক্তার, কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান খোন্দকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শুল্ক ও অভিবাসন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close