reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩

কৃষির আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখছে সমন্বিত কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৩ শতাংশ। ২০২০ সাল থেকে করোনার প্রাদুর্ভাবের ফলে যখন বিশ্বে চরম খাদ্যসংকট তৈরি হয়েছে তখনো বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা ছিল খুবই ভালো। বর্তমান সরকার কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে নানা উপায়ে খাদ্যনিরাপত্তা বিধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার সঙ্গে পুষ্টি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনের সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতিগত কারণে প্রতি বছর দেশে ০.৪৩ শতাংশ হারে কৃষিজমি হ্রাস পেলেও দেশে স্বাধীনতাণ্ডপরবর্তী সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে চালের উৎপাদন। কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চাল উৎপাদন বাড়ছে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে দানাশস্যে ফসল কর্তনোত্তর ক্ষতির পরিমাণ মোট উৎপাদনের ১২-১৫ শতাংশ, যা ফল ও শাকসবজির ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ। এছাড়া গবেষণায় জানা যায়, বাংলাদেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৭ শতাংশ গম, ১২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ তৈলবীজ, ২৫ শতাংশ শাকসবজি ও আলু, ১২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ডাল শস্য এবং ১০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ মরিচ ফসলে কর্তনোত্তর ক্ষতি হয় শুধু দক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করার ফলে।

অন্যদিকে উৎপাদন থেকে বাজারজাত পর্যন্ত প্রায় ১৪ শতাংশ শস্য বিনষ্ট হয়, যার পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টন। উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিকমাত্রায় যান্ত্রিকীকরণ করা গেলে শস্যের অপচয় কমিয়ে ৫ শতাংশে আনার মাধ্যমে প্রায় ৩২ লাখ টন শস্যের অপচয় রোধ করা সম্ভব। এই অপচয়রোধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের কৃষিকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকায় ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যার মাধ্যমে সারা দেশের প্রতিটি উপজেলার মাধ্যমে কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কম্বাইন হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, সিডার, রিপার ইত্যাদিসহ মোট ১২ ধরনের আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে প্রকল্পটি। এতে প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার।

আধুনিক ও সময়োপযোগী কম্বাইন হারভেস্টার, যা এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। খুব অল্প সময়ে ধান ও গম কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই একই সঙ্গে করা যায়। মাত্র ১ ঘণ্টায় ১ একর জমির ধান/গম কাটা যায়। এতে করে শ্রমিক সংকট রোধ হয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যশোর জেলার দীপ রঞ্জন বিশ্বাস নামে এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে প্রকল্প থেকে একটি কম্বাইন হারভেস্টার ক্রয় করে নিজ এলাকা ও পাশের জেলায় মৌসুমে ধান কেটে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করছে। তার মতো অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এরই মধ্যে প্রকল্প থেকে সুবিধা নিয়ে আত্মনির্ভর হয়ে উঠেছে।

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের পাশে থাকেন। এজন্য সরকার কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ধান রোপণ থেকে কাটা পর্যন্ত সবকিছুই যন্ত্রের মাধ্যমে করা হবে। এজন্য সব যন্ত্র বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে। কৃষির সব ক্ষেত্রকে বাণিজ্যিকীকরণ করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ তারিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আমরা এরই মধ্যে ১৬ হাজার ২৩৮টি যন্ত্র বিতরণ করেছি। এটি বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের একটি মহৎ ও নজিরবিহীন প্রকল্প। দেশে যাতে কখনো খাদ্যসংকট না হয় সেজন্য প্রকল্পটি একটি ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close