বেনাপোল (যশোর) ও বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

  ১৭ মে, ২০২৪

শার্শায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ১২

যশোরের শার্শা ও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষের হামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। গত বুধবার রাতে এসব ঘটনা ঘটে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে ২১ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শার্শা উপজেলা নির্বাচনে দলীয় কোন্দলে বর্তমান চেয়ারম্যানের সমর্থকদের হামলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রশিদসহ ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার রাত ৯টায় উপজেলার গোগা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই থানায় মামলায় হয়েছে। একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আহতরা হলেন- সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ (৫৭), ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন (৪৪), গোগা এলাকার জয়নালের ছেলে জুলফিকার আলী ভুট্টো (৪০), একই এলাকার নূর ইসলামের ছেলে আবদুল ওহাব (৪৫), ইদ্রিস (৪৫), অমিত হাসান (২৬), আমির হোসেন (৫২), মেহেদী হাসান (২৫), আজগার আলী (৪৫) ও আবদুল জব্বার। তাদের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪ মাস আগে গোগা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান তবিবর রহমানের নেতৃত্বে তার লোকজন সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রশিদের গোগা বাজারে অবস্থিত মুদি দোকান জোরপূর্বক দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেন। ওই দোকানের চাবি বাজার কমিটির সেক্রেটারি ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলীর কাছে রাখে। বুধবার রশিদ চেয়ারম্যান উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সোহরাব হোসেনের পক্ষে নির্বাচনী অফিস করার জন্য মোহাম্মদ আলীর কাছে ওই দোকানের চাবিটি ফেরত চায়। চাবি দিতে রাজি না হলে তিনি দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় দোকানটি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সোহরাব হোসেনের নির্বাচনী অফিস হিসেবে ঘোষণা করেন।

পরে বর্তমান চেয়ারম্যান তবিবর রহমান দোকানের তালা ভাঙার বিষয়টি জানতে পেরে তরিকুল মেম্বার, বাবুল, শাহ আলম মেম্বার, সাহেব আলীসহ আরো ৪০-৫০ জনের একটি বাহিনী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ জানান, ‘আমরা উপজেলা নির্বাচনে দোয়াত-কলম মার্কার প্রার্থী সোহরাব হোসেনের জন্য ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ভোটপ্রার্থনা করে গোগা বাজারে এসে বসেছিলাম। সেখানে তবি ও তার বাহিনীর লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমিসহ আমার ১০ নেতাকর্মীকে তারা পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে।

এ বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান তবিবর রহমান বলেন, ‘আমি বাজারে ছিলাম না। পরে এসে শুনি, অফিসে বসা নিয়ে আমাদের কিছু লোকজনের সঙ্গে তাদের ঝামেলা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।’ নাভারন সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান জানান, এ ঘটনায় বুধবার রাতে থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। গোগা ও ভুলোট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আনারস ও ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, রাত ১০টায় ২০-২৫টি মোটরসাইকেলযোগে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে মাহমুদ হাসানের নেতৃত্বে তার ৪০-৫০ কর্মী-সমর্থক বগা ইউনিয়নের কাদের মোল্লার গ্যারেজের কাছে আনারস প্রতীকের কর্মী শাহীন গাজীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় শাহিন গাজীকে (৩৩) মারধর করে। শাহিন গাজী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কালা গাজীর ছেলে ও রাজনগর গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। ওইদিন রাতে তাকে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আনারসের প্রার্থী মোসারেফ হোসেন খানের কয়েক কর্মী-সমর্থক ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ভাগ্নে ও ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান সুমনকে (৩৪) কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। তাকে বগা ইউনিয়ন ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, ঘটনা শুনেছি। তবে কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেননি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close