নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৫ মে, ২০২৪

ঢাকায় ডোনাল্ড লু

নাগরিক সমাজের সঙ্গে বৈঠক

ভারত ও শ্রীলঙ্কা হয়ে তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। সফরের শুরুতেই দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের গুলশানের বাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ডোনাল্ড লুর সঙ্গে অংশ নেন গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, শ্রমিক নেতা ও জলবায়ু কর্মীরা। এদের মধ্যে ছিলেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আখতার, শ্রমিক নেতা বাবুল আখতার, জলবায়ু কর্মী সোহানুর রহমান এবং মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন।

জানা গেছে, মূলত বাংলাদেশের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ছাড়াও এ বৈঠকে কয়েকজন বিদেশি কূটনৈতিকও ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আমেরিকার দক্ষিণ ও এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর চিফ অফিস স্টাফ ন্যাথানিয়াল হাফট, ব্যুরো অব ইন্টেলিজেন্ট অ্যান্ড রিসার্চের বিশ্লেষক সারাহ আল্ডরিচ, মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, ইউএসএআইডির মিশন ডিরেক্টর রিড এসলিম্যান, পলিটিক্যাল কাউন্সিলর আর্তুরো হাইনস, ডেপুটি পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সিল শ্যারন ফিটজগ্যারল্ড, পলিটিক্যাল অ্যাটাচ ম্যাথিউ বেহ এবং জার্মান রাষ্ট্রদূত আছিম ট্রোস্টার।

এর আগে, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছেন ডোনাল্ড লু। তার তিন দিনের এ সফরে মূল বৈঠক হবে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা সফরকালে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন ডোনাল্ড লু। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি এবং র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, নাগরিক অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাবে।

সূত্র জানায়, সফরকালে ডোনাল্ড লু ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন তিনি। এছাড়া ইন্দো প্যাসিফিক কৌশলের-আইপিএস মাধ্যমে সমুদ্রে চীনের আধিপত্য ঠেকানোর বার্তাও দিতে পারেন লু।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সফর করছেন ডোনাল্ড লু। তার এ সফরের মধ্য দিয়ে দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা করছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র যে একটি মুক্ত, অবাধ ও সমৃদ্ধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল দেখতে চায়, ডোনাল্ড লুর সফরে সেটাই গুরুত্ব পাবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ডোনাল্ড লুর সফরে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি এবং র‍্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আলোচনা করব। এর আগে যখন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা সফরে এসেছিলেন, তখনি আমরা এসব সহজীকরণ বা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছি। এবারও এসব ব্যাপারে আলোচনা হবে।

উল্লেখ্য, ১০ থেকে ১৫ মে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ এ তিনদেশে লুর ৬ দিনের সফরের তথ্য জানায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তৃতীয় দফা সরকার গঠনের পর ডোনাল্ড লুর প্রথম ঢাকা সফর। গত বছরের ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি ঢাকা সফর করেছিলেন তিনি। তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে নানাভাবে তৎপর ছিল। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড লু গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে শর্তহীন সংলাপের জন্য চিঠি দিয়েছিলেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close