নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ভাষা সংগ্রামে নারী

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বাঙালি বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। পাকিস্তানি জান্তার শোষণ-নিপীড়নের প্রথম আঘাত ‘বাংলা ভাষা’র ওপর করা হয়েছিল। ৪৮ থেকে ৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি হয়ে ছাপ্পান্নতে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি- দীর্ঘ এক সংগ্রামের ইতিহাস। এ সংগ্রামে বিশেষ ভূমিকা ছিল এদেশের নারীদেরও। ভাষা আন্দোলনের পুরো সময়টায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নারীরা অংশ নিয়েছিলেন। তারা মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন, পোস্টার লাগিয়েছেন, অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তারা আহত হয়েছেন, আবার আহত সতীর্থদের সেবাও করেছেন। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে তাদের এ অবদান আজও পূর্ণাঙ্গরূপে আসেনি। অনেকে এরই মধ্যে নীরবে-নিভৃতে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।

১৯৫২ সালের ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ‘পতাকা দিবস’ পালনে ৫০০ পোস্টার লেখার দায়িত্ব নাদিরা বেগম ও শাফিয়া খাতুনকে দেওয়া হয়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্য ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে সে দায়িত্ব পালন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি সর্বাত্মক হরতাল পালনের জন্য দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলে। এতে মেয়েদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। লায়লা সামাদ, শামসুন নাহার, শাফিয়া খাতুন, সারা তৈফুর, রওশন আরা বাচ্চু, সুফিয়া আহমেদ, রওশন আরা রহমান, হালিমা খাতুন, কায়সার সিদ্দিকী প্রমুখ ছাত্রী ঢাকার তৎকালীন বকশীবাজার কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা কলেজ), মুসলিম গার্লস স্কুল, বাংলা বাজার গার্লস স্কুল, কামরুন্নেসা গার্লস স্কুলে গিয়ে মেয়েদের উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করেন।

২১ ফেব্রুয়ারি আমতলায় গাজীউল হকের সভাপতিত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্তের পর ছাত্ররা কয়েকটি দলে বের হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এরপর মেয়েদের একটি দল বের হয়। যেখানে সুফিয়া আহমেদ, রওশন আরা বাচ্চু, শাফিয়া খাতুন, শামসুন্নাহার, সারা তৈফুরসহ বেশ কয়েকজন ছিলেন। তাদের ওপরও পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

জানা যায়, ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ইউনিয়নের সভাপতি শাফিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের একটি সভা হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আজিমপুর কলোনির মেয়েরা প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। সেখানে কমলাপুরসহ ঢাকার অন্য এলাকা থেকে মেয়েরা যোগ দেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close