জাবি প্রতিনিধি

  ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

জাবিতে ধর্ষণকাণ্ডের নেপথ্যে ইয়াবা

পঞ্চম দিনেও আন্দোলন অব্যাহত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রতি মাসে বিক্রি হতো ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার পিস ইয়াবা, যার অধিকাংশ গ্রাহক ছিলেন জাবি শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি আবাসিক হলে বহিরাগত এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে তার স্ত্রীকে নির্জন স্থানে নিয়ে ‘দলবদ্ধ ধর্ষণের’ মূল পরিকল্পনাকারী মো. মামুনুর রশিদ মামুন ও তার সহযোগী মো. মুরাদকে গ্রেপ্তারের পর এমনই চাঞ্চল্যকর কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি জানান, বুধবার রাতে র‌্যাব-৪, র‌্যাব-২ ও র‌্যাব-৫-এর সদস্যরা রাজধানীর ফার্মগেট থেকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মূল পরিকল্পনাকারী মামুনুর রশিদ মামুন (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করেন। র‌্যাবের অন্য একটি দল নওগাঁ সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম আসামি জাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মুরাদ (২২)-কে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

র‌্যাব আরো জানায়, মামুন ৬-৭ বছর ধরে মাদক কারবারে জড়িত। মামুন কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে প্রতি মাসে ৭-৮ হাজার পিস ইয়াবা সংগ্রহ করে তা জাবির আশপাশের এলাকাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করতেন। মাদক বিক্রির সুবাদে ধর্ষণ মামলার ১ নম্বর আসামি মোস্তাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ছাত্রের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে মামুনের। ২০১৭ সালের পর থেকে ক্যাম্পাসে মাদক সরবরাহ করে আসছেন মামুন।

র‌্যাবের মুখপাত্র জানান, গ্রেপ্তার মামুন জুরাইনে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখান থেকেই মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ভুক্তভোগীর স্বামীর একই এলাকায় বসবাসের কারণে তিন বছর আগে তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। পরে মামুন ওই নারীর ভাড়া বাসায় সাবলেট হিসেবে ৩-৪ মাস থাকেন। এতে তাদের সঙ্গে মামুনের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিচয়ের সুবাদে ভুক্তভোগীর স্বামী জাহিদ মাঝে মাঝে মামুনের মাদক বিক্রি করে দিতেন।

পঞ্চম দিনে আন্দোলন : ধর্ষণের ঘটনায় টানা পঞ্চম দিনের মতো জাবিতে বৃহস্পতিবারও আন্দোলন অব্যাহত ছিল। ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ঢাকা জেলা। এ সময় তারা ভিসি বরাবর একটি স্মারকলিপিতে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। এদিকে ‘নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ’র ব্যানারে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাবির বটতলায় ৪ দফা দাবিতে গণসংযোগ ও সমাবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মশাল মিছিল করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ভিসি অধ্যাপক মো. নূরুল আলম মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধ শিক্ষার্থী এবং পোষ্য কোটায় ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়তে আবারও নির্দেশ দিয়েছেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় আবাসিক হলগুলোয় অবৈধভাবে অবস্থানরত সাবেক শিক্ষার্থী এবং পোষ্যদের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করার জন্য ভিসি বিভিন্ন আবাসিক হল সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close