সুমাইয়া আকতার, বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজ

  ১৯ মে, ২০২৪

গরমে শিশুর বাড়তি যত্ন

চৈত্রের কাঠফাটা গরমে কষ্ট পাচ্ছে শিশুরা। বছরের উষ্ণতম মাস এপ্রিলে শিশুরা সাধারণত ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের চর্মরোগ, ভাইরাস জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়। এ সময় হাসপাতালে রোগীর উপচে পড়া ভিড় থাকে। তাই অভিভাবকদের সচেতন থাকার পাশাপাশি নিতে হবে বাড়তি যত্ন।

পোশাক-আশাক : প্রথমেই আসে শিশুর পোশাক-আশাক। গরমে শিশুদের সব সময় হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরানো দরকার। মশার উপদ্রব থেকে বাঁচাতে শিশুদের সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখে, এমন জামা পরানো যেতে পারে। হালকা রঙের কাপড়-চোপড় খুব দ্রুত শুষে নেয় শরীরের গরম। সবচেয়ে ভালো হয় সাদা কাপড়ে। নবজাতকদের বেলায় তাদের দিনে মশারির নিচে রাখা ভালো। খুব সম্ভব হলে ডায়াপার ব্যবহার না করাই ভালো। ডায়াপারের কারণে শিশুদের র‌্যাশ হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পাউডার বা ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।

শিশুর সুষম খাবার : গরমে শিশুদের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য খাবার হলো বুকের দুধ। দুধের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি ও পানিজাতীয় খাবার দেওয়া যেতে পারে। পানিশূন্যতা কাটাতে তরল খাবারের বিকল্প নেই। তবে ছয় মাসের কমবয়সি শিশুদের পানি খাওয়ানোর দরকার নেই। প্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের ফল বিশেষত তরমুজ, যার ৬০-৭০ শতাংশই পানি, এটি খাওয়ানো যেতে পারে। সালাদ কিংবা এর বাইরে অতিরিক্ত গরমে স্যালাইন খেতে দেওয়া যেতে পারে। মৌসুমি ফল খাওয়ানোর পাশাপাশি সহজে হজমযোগ্য খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন : দুধ, ডিম, শাকসবজি ইত্যাদি।

শিশুকে পরিষ্কার রাখা : গরমে শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত সাবান দিয়ে গোসল করাতে হবে। শিশুদের চুল ছোট রাখাই ভালো। গোসলের পানি অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা গরম রাখা যাবে না। অতিরিক্ত গরমে শিশু বারবার ঘেমে গেলে নরম পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঘাম মুছে দিতে হবে। অন্যথায় শরীরে ঘাম শুকিয়ে ঠাণ্ডা লাগার সম্ভাবনা থাকে।

আরামদায়ক ঘর : শিশুর জন্য ঘর হলো সবচেয়ে আরামপ্রদ জায়গা। সে জন্য ঘরে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করার জন্য ঘরের জানালাগুলোতে ভিজা কাপড় টানিয়ে রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি ঘরের কোণে গামলায় ঠাণ্ডা পানি বা বরফ রেখে দিলে ঘর ঠাণ্ডা অনুভূত হবে। শিশুর শোওয়ার ঘর খোলামেলা ও আরামদায়ক হওয়া জরুরি।

ঘরের বাইরে বেরোনো : ছয় মাস বয়সি শিশুদের গ্রীষ্মকালীন রোদ থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা প্রয়োজন। কিন্তু খুব প্রয়োজনে শিশুকে বাইরে নিতে হলে সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা দেবে এমন পোশাক পরানো উচিত এবং এসপিএফযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। প্রয়োজনে ছাতা ব্যবহার করা শিশুর জন্য আরামদায়ক হবে। তবে গরমে শিশুদের নিয়ে বেশিদূর যাত্রা না করাই ভালো। স্থান ও পরিবেশভেদে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।

সর্বোপরি গরমে ডায়রিয়া, বমি, পানিশূন্যতা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা যেকোনো অসুস্থতায় ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close