মোহাম্মদ রাজীব মিয়া, কুবি

  ৩০ নভেম্বর, ২০২৩

থিয়েটার কুবি নাট্যোৎসব-২০২৩

‘চণ্ডালিনী’ যে নাটকে দুলি পাগলির ‘মাতৃত্ব’ জেগে ওঠে

নাটক ‘চণ্ডালিনী’। নাটকের প্রধান চরিত্র দুলি। পতিতা হওয়া সত্ত্বেও তার ভেতরে হঠাৎ ‘মাতৃত্ব’ জেগে ওঠার গল্প নিয়ে রচিত হয়েছে নাটকটি। ‘চণ্ডালিনী’ লিখেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য সংগঠন ‘থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্তৃক আয়োজিত ‘৩য় আন্তঃবিভাগ নাট্য প্রতিযোগিতাণ্ড২০২৩’ এ বিচারকম-লির রায়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে নাটকটি।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। এতে মোট চরিত্র সংখ্যা সাতটি। এর মধ্যে পতিতা দুলি (সাদিয়া) প্রধান চরিত্রে এবং চাক্কু মজিদ (সালাউদ্দিন) খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

রাজধানীর কল্যাণপুরের ফুটওভারব্রিজের বেশ কজন নিম্নশ্রেণির মানুষের রাত্রিকালে ঘটনা নিয়ে ‘চণ্ডালিনী’ নাটকের প্রারম্ভ। ওই রাতের কিছু খণ্ডচিত্র দিয়ে নাটকটি ধীরে ধীরে ক্লাইমেক্সের দিকে ধাবিত হয়। প্রথমে নাটকের এক ভাসমান পতিতা ফতির তিন শিশুপুত্রের সঙ্গে নাটকের প্রধান চরিত্র এক বিকৃত আধপাগলিনীর বাকবিতণ্ডা। এদিকে নাটকের প্রধান চরিত্র দুলির প্রতি দুই ভিক্ষুক নজু ও কালুর বিরক্তি। অন্যদিকে ব্রিজের ওপর সস্তায় খোদেজা পতিতার সন্ধানে চাক্কু মজিদ নামে এক মাতালের অনুপ্রবেশ। খোদেজা এইডস আক্রান্ত এ বিষয় নিয়ে চাক্কু মজিদ ও নজু-কালুর হালকা রসালাপের সঙ্গে তিনজনের নেশা গ্রহণ। এবার ‘জলে ভাষা পদ্ম আমি, শুধু পেলাম ছলনা’ গাইতে গাইতে মঞ্চে প্রবেশ করেন খোদেজা। খোদেজা চা খাওয়ার উদ্দেশ্যে মঞ্চে প্রবেশ করলেও তার মূল উদ্দেশ্য ছিল খদ্দর চাক্কু মজিদকে শারীরিকভাবে প্রলুব্ধ করা। এরপর চাক্কু মজিদের মদ খেয়ে বেশামাল খোদেজার অসুস্থ হয়ে যাওয়া এবং কালু ও নজু কর্তৃক খোদেজাকে নিপীড়ন করে ব্রিজ থেকে বের করে দেওয়া এ সব ঘটনার মধ্য দিয়ে গিয়ে যায় নাটকটি।

পরবর্তী দৃশ্যকল্পে পতিতাকে কাছে না পেয়ে চাক্কু মজিদ ফতির ছোট শিশু পুত্রকে চুরি করার ধান্দা করে। শিশু বিক্রি করে অনেক টাকা পাবার লোভে চাক্কু মজিদ স্বপ্ন দেখে নিমতলীর প্রিন্সেস শিউলি বালার সঙ্গে নাচ গানের আসরে গিয়ে মাতলামি করার। এর মধ্যে আধপাগলী দুলির অনুপ্রবেশ ও তার সঙ্গে চাক্কু মজিদের ঝগড়া। প্রথমে চাক্কু মজিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চেয়েও না পেরে সবার কাছে উপেক্ষিত দুলির বিকৃত প্রলাপ শুরু হয়। কিন্তু ফতির বাচ্চাকে চুরি করতে দেখে দুলির ভেতরে ‘মাতৃত্ব’ জেগে ওঠে। বাচ্চাটি দুলির না হলেও, দুলি তার সমস্ত শক্তি দিয়ে মাতাল চাক্কু মজিদের কাছ থেকে শিশুটিকে রক্ষা করার জন্য প্রাণপন যুদ্ধ করতে থাকে। এ যুদ্ধে বিজয়ী হতে দুলি পাগলি দেবীমা কালীদুর্গার মতো সর্বশক্তি দিয়ে লড়ে যায়। পরিশেষে দুলির ভেতরে অশুভ শক্তি বিনাশের প্রেরণা জাগরণের মধ্য দিয়ে নাটকটির পরিসমাপ্তি ঘটে।

ওইদিন বাংলা, ইংরেজি, নৃবিজ্ঞান, গণিত, প্রত্নতত্ত্ব, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৬টি নাটক মঞ্চস্থ করে নাট্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় রাত ১০টায় কুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন প্রধান অতিথি হিসেবে নাট্য প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম নির্বাচিত হয়েছে বাংলা বিভাগের নাটক ‘চণ্ডীলিনী’; প্রথম রানার-আপ নির্বাচিত হয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নাটক ‘আর্তনাদ’; দ্বিতীয় রানারআপ নির্বাচিত হয়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নাটক ‘পাগল পাগল বদ্ধ পাগল’ এবং সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছেন ‘আর্তনাদ’ নাটকের প্রতিবন্ধী চরিত্রটি।

পুরস্কার বিতরণী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কুবি উপাচার্য বলেন, নাটক সমাজের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে। এখানেও আজকে মঞ্চস্থ হওয়া নাটকগুলো সেটিই করেছে। প্রতিটি নাটকেই আমাদের জন্য একটা মেসেজ থাকে। সেই মেসেজটা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়াই যেন আমাদের দায়িত্ব হয়।

এ সময় ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা কার্যালয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক এন এম রবিউল আউয়াল চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহিদা বেগম, উদীচী কুমিল্লার সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close