প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১৮ মে, ২০২৪

বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে আজাদ কাশ্মীর

‘আবার অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে কাশ্মীর’- এই পরিচিত শিরোনামটি কাশ্মীরের যে অংশের সঙ্গে মানুষ বেশি ‘রিলেট’ করে থাকেন সেখানে পরিস্থিতি এখন এমন নয়। বরং বলা চলে যে এলাকা নিয়ে দীর্ঘদিন এমন শিরোনাম চোখে পড়েছে সেটা এখন শান্ত ও স্বাভাবিক। বরং কাশ্মীরের অন্য অংশটিতেই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ ক্রমশ প্রশাসনের হাতের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে!

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে যখন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ঢল নেমেছে এবং দারুণ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে দেশের সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তখন নিয়ন্ত্রণরেখা বা লাইন অব কন্ট্রোলের (এলওসি) অন্য পারে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষ রোজ তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, পাকিস্তান যেটাকে ‘আজাদ কাশ্মীর’ বলে থাকে সেই ভূখণ্ড রীতিমতো জ্বলছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা অনেকে এমনও বলছেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, সেটাকে একাত্তরে বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করলেও বোধহয় ভুল হবে না। ৫৩ বছর আগে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানের নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রতিবাদ জানিয়ে ইসলামাবাদের শাসন থেকে নিজেদের মুক্ত করেছিলেন, ‘আজাদ কাশ্মীরে’ও ঠিক সেই ধরনের আন্দোলন দানা বাঁধছে বলে তারা অনেকেই বলছেন।

অন্য দিকে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে যেখানে মাত্র কয়েক বছর আগেও বিক্ষোভণ্ডপ্রতিবাদ, জঙ্গি হামলা কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয়দের পাথর ছোঁড়া ছিল রোজকার নিয়মিত দৃশ্য ছিল, সেই জায়গায় বছর পাঁচেক আগে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ভারতীয় কতৃর্পক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরের বাসিন্দারা ক্রমশ জাতীয় জীবনের মূল ধারায় ফিরে আসছেন এবং উন্নয়ন ও পর্যটনের হাত ধরে সেখানে অর্থনীতির লেখচিত্রও ঊর্ধ্বমুখী বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পরিস্থিতি কেন এভাবে আচমকা অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল?

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালিস্ট অমিত বনসাল দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরের ওই ভূখণ্ডটি নিয়ে গবেষণা করছেন। তার মতে, এই বিক্ষোভণ্ডপ্রতিবাদ রাতারাতি শুরু হয়নি। এর পেছনে আসলে নির্দিষ্ট কিছু কারণ আছে এবং রয়েছে বহু দিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ।

প্রথমত, পাকিস্তান অংশের কাশ্মীর সে দেশের একটি অবহেলিত ভূখণ্ড। জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, রেমিট্যান্স, কৃষি, পর্যটন– নানা দিক থেকে পাকিস্তানের বাকি অংশের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ এই এলাকা, কিন্তু প্রশাসনের কাছে এটি বঞ্চিতই রয়ে গেছে। যেমন- ওই অঞ্চলের মংলা ড্যাম একাই পুরো পাকিস্তানের ২০ শতাংশ জলবিদ্যুৎ তৈরি করে থাকে। কিন্তু তার ৭০ শতাংশই কাজে লাগানো হয় পাঞ্জাব প্রদেশে। পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর ও গিলগিত-বালতিস্তানের বেশিরভাগ জায়গায় আজও ইলেকট্রিসিটিই পৌঁছায়নি। আবার বাকি পাকিস্তানের চেয়ে কাশ্মীরের ওই অংশে স্বাক্ষরতার হার অনেক বেশি, তা সত্ত্বেও সেখানে উচ্চশিক্ষার জন্য কোনও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়নি।

দ্বিতীয়ত, ওই অঞ্চলে ভালো রাস্তা, সেতু, হাসপাতালের মতো অবকাঠামো আজ পর্যন্ত নেই। যেটুকু যা হয়েছে তা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জন্য বা চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরের সুবাদে। কিন্তু সেখানে স্থানীয়দের অ্যাকসেস নেই। ২০০৫ সালে বিধ্বংসী ভূমিকম্পে যখন পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে লক্ষাধিক লোক নিহত হয়েছিলেন, দুর্গতরা কিন্তু পাকিস্তানে সেনা ক্যাম্পের হাসপাতালে পর্যন্ত ঢুকতে পারেননি!

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close