প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ০১ মার্চ, ২০২৪

খাদ্যের অভাবে প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা, গাজায় নিহত ৩০ হাজার ছুঁইছুঁই

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজারের কাছাকাছি। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) গাজা উপত্যকার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে খাবারের অভাবে ও অপুষ্টিতে ভুগে গাজায় মারা গেছে অন্তত ছয় শিশু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৭৬ জন নিহত হওয়ায় এ সংখ্যা বেড়ে ২৯,৯৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। খবর আনাদুলু এজেন্সির।

গত ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ৭০,৩২৫ জন আহত হয়েছে। নিখোঁজ ও ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে আরো অনেকে। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার কামাল আদওয়ান ও আল শিফা হাসপাতালে পানিশূন্যতা ও অপুষ্টিতে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরো অনেক শিশুর অবস্থা গুরুতর। যেকোনো সময় তাদের মৃত্যু হতে পারে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কামাল আদওয়ান হাসপাতালে চার শিশুর মৃত্যু হয়। এরপর আল শিফা হাসপাতালে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

প্রায় পাঁচ মাস ধরে গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ হামলার কারণে অবরুদ্ধ এ ভূখণ্ডটিতে তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে কয়েক লাখ বাসিন্দা। লাখো মানুষ উদ্বাস্তু, খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। ইসরায়েলের বাধায় গাজায় ত্রাণ সহায়তা সরবরাহের গতি আরো মন্থর হয়ে গেছে। ত্রাণ না পৌঁছানোয় ছোট ছোট শিশুরাও খাবার পাচ্ছে না।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী সংস্থা জানিয়েছে, উত্তর গাজামুখী অর্ধেকের বেশি ত্রাণ সহায়তাকে গত মাসে সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি ইসরায়েল। কোথায় ও কীভাবে এই ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে- সে বিষয়েও জাতিসংঘের ওপর খবরদারি করছে ইসরায়েলি সেনারা।

বর্তমানে উপত্যকাটির এক-চতুর্থাংশ বাসিন্দা দুর্ভিক্ষ থেকে মাত্র একধাপ দূরে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিট্যারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (ইউএনওসিএইচএ) কো-অর্ডিনেশন ডিরেক্টর রমেশ রাজাসিংহাম বলেছেন, গাজার দক্ষিণে জনাকীর্ণ এলাকায়ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। আর যদি এমনটা হয়, তাহলে মানবিকবিষয়ক সমন্বয়ের কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তিনি নিরাপত্তা কাউন্সিলকে বলেন, গাজার দুই বছরের কমবয়সি প্রতি ছয় শিশুর একজন অপুষ্টিতে ভুগছে এবং মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সার্বিকভাবে, গাজার ২৩ লাখ ফিলিস্তিনিদের সবাই প্রয়োজনের তুলনায় ‘খুবই সামান্য’ খাবার খেয়ে বেঁচে আছেন।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় খাবারের জন্য অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে। গাজার নুসেইরাত, বুরেইজ এবং খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, ধীর গতিতে শিশুদের গণহত্যার সাক্ষী হচ্ছে গাজা। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা সেখানে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সে সময় ইসরায়েলি সেনারা আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছে।’

বেশ কিছু ফুটেজে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন হতাহত ফিলিস্তিনিকে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানো কোনো অ্যাম্বুলেন্সও প্রবেশ করতে পারছে না। আল-রশিদ স্ট্রিটে জড়ো হয়েছিলেন ফিলিস্তিনিরা। আটা বহনকারী ত্রাণবাহী ট্রাক থেকে তাদের সহায়তা দেবে বলে তারা অপেক্ষা করছিলেন। তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগে খাবারের জন্য অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডবে প্রতিদিনই শত শত নিরীহ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারাচ্ছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close