প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

যুদ্ধে চার লাখ সেনা হারিয়েছে রাশিয়া

দুই বছরে যুদ্ধে রাশিয়া ৪ লাখ ৯ হাজার ৮২০ জন সেনা হারিয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। এ ছাড়া ইউক্রেন জানিয়েছে, যুদ্ধে তাদের ৩১ হাজার সেনা প্রাণ হারিয়েছে। রবিবার ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এই তথ্য জানিয়েছে। ফেসবুকে এক পোস্টে ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ অব দ্য আর্মড ফোর্সেস রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতির এ খবর প্রকাশ করে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়া কোনো মন্তব্য করেনি। খবর ভয়েস অব আমেরিকার। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার পুরো মাত্রার আগ্রাসনের সময় গত ২ বছরে ৩১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে।

তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আহত সেনার সংখ্যা জানাতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এই সংখ্যা রাশিয়ার সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা করবে। রবিবার ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইউক্রেনের কয়েকটি প্রদেশে লক্ষ্য করে ছোড়া ১৮টি রুশ ড্রোনের মধ্যে ১৬টি ভূপাতিত করেছে। শনিবার যুদ্ধের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যারা ইউক্রেনকে সমর্থন করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের সেটাই নিশ্চিত করতে হবে যেন রাশিয়া হেরে যায়, তাহলেই কেবল পুরো বিশ্ব সম্প্রদায় এবং এ ধরনের আন্তর্জাতিক আইনগুলো টিকবে। ইউক্রেনীয়রা এই দিনটি যুদ্ধে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দিয়ে উদযাপন করে। যুদ্ধের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন করতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যত দিন প্রয়োজন তত দিন ইউক্রেনকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গ্রুপ অব সেভেনের নেতারা।

এক বিবৃতিতে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে চীন ও ইরানের সমর্থনের নিন্দা জানিয়েছে জি সেভেন। রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রতি সহায়তা করা বন্ধ করার জন্য ইরানের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে তারা। তা ছাড়া মস্কোর কাছে চীনা অস্ত্র উপাদান এবং ও সামরিক সরঞ্জাম হস্তান্তরের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শান্তি সম্মেলনে রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে ইউক্রেন : এদিকে, ইউক্রেন ও দেশটির বৈদেশিক মিত্ররা একটি সম্ভাব্য শান্তি সম্মেলনে রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। ওই সম্মেলনে কিয়েভের শর্তে ইউক্রেনে রাশিয়ার দুই বছরের আক্রমণ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হবে। রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক সিনিয়র ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা এ আভাস দিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়ারমাক বলেছেন, ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনার ওপর একটি সম্মেলন আয়োজন করতে পারে সুইজারল্যান্ড। সেখানে হয়তো রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।

টেলিভিশনে প্রচারিত এক সম্মেলনে ইয়ারমাক বলেছেন, সেখানে হয়তো এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যাতে করে আমরা রাশিয়ার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানাতে পারি। ওই সময় আক্রমণকারী দেশকে যারাই প্রতিনিধিত্ব করুক, তারা যদি সত্যিকার অর্থে যুদ্ধের অবসান ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী হয়, তাহলে তাদের কাছে আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। ২০২২ সালের নভেম্বরে জি-২০ দেশগুলোর সম্মেলনে নিজের শান্তি পরিকল্পনা হাজির করেছিলেন জেলেনস্কি। এতে ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও ইউক্রেন থেকে রুশ সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

কিয়েভ বলে আসছে, রুশ সেনারা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড ছাড়ার আগ পর্যন্ত মস্কোর কোনো আলোচনায় বসবে না তারা। ক্রেমলিন বলেছে, বর্তমানে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনার কোনো ভিত্তি নেই। কিয়েভের শান্তি পরিকল্পনা অবাস্তব, কারণ এতে রাশিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close