নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১১ জুন, ২০২৪

এমপি আজীম হত্যা

সেপটিক ট্যাংকের মাংস ও খালের হাড় মানুষের

ভারতের কলকাতার উপকণ্ঠ নিউটাউনের সঞ্জিভা গার্ডেনসের সেপটিক ট্যাংকে পাওয়া সেই মাংসের টুকরো ও খাল থেকে উদ্ধার হাড়গুলো মানুষের বলে জানা গেছে। তবে সেগুলো ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের কি না, নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে জানান তদন্তকারীরা। আনার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি ও তদন্তকারীদের সূত্র বলছে, সঞ্জিভা গার্ডেনসে এমপি আনারকে হত্যার পর তার মরদেহকে টুকরো টুকরো করা হয়। এরপর মাংস থেকে হাড় আলাদা করে সেগুলো দেশটির বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি মতে, আনারের মরদেহ টুকরো করার পর মাংস ফেলা হয় সঞ্জিভা গার্ডেনসের কমোডে এবং হাড়গুলো ফেলা হয় পার্শ্ববর্তী বাগজোলা খালে। জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়ার পর টানা অভিযান চালায় সিআইডিসহ দেশটির বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। গত রবিবার কলকাতার কৃষ্ণমাটি সেতুসংলগ্ন এলাকার বাগজোলা খাল থেকে কিছু হাড় উদ্ধার করেছে সিআইডি, পুলিশ ও নৌবাহিনীর ডিএমজি টিম। এরপর উদ্ধার হওয়া হাড়গুলো মানুষের নাকি কোনো বন্যপ্রাণীর, সেটা জানতে পাঠানো হয় ফরেনসিকে। সিআইডি দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, নেপালে গ্রেপ্তার হওয়া সিয়ামকে ভারতে ফেরানো হয়েছে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার নির্দিষ্ট করা জায়গা থেকে হাড় উদ্ধার হয়েছে। জিরানগাছা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ও কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির বিশেষজ্ঞরা জানান, খাল থেকে উদ্ধার হওয়া হাড়গুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি মানুষের বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর আগে তদন্তকারীদের একটি সূত্র জানায়, সঞ্জিভা গার্ডেনসের সেপটিক ট্যাংকে পাওয়া মাংসের টুকরোগুলো মানুষের বলে জানান ফরেনসিক পরীক্ষাকারীরা। তবে সেগুলো এমপি আনারের কি না, তা জানতে ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে। সেপটিক ট্যাংক ভেঙে মাংসের টুকরোগুলো উদ্ধারের পর এমপি আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌসি ডরিন ও তার চাচাকে ডেকেছিলেন তদন্তকারীরা। কিন্তু ভিসা জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে তাদের ভারত যাওয়া পেছানোর কারণে এখন পর্যন্ত তদন্তের কাজ আটকে রয়েছে বলে জানান সিআইডির কর্মকর্তা। এদিকে এমপি আনার হত্যায় ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালে এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। তাদের মধ্যে আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও তানভীর ভূঁইয়াকে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই দফায় তাদের ১৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হলে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন আদালত। সেখানে তারা এমপি আনার হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

এমপি আনার হত্যার অন্যতম আসামি জিহাদ কসাই। এমপির মরদেহ টুকরো টুকরো করে কাটেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে আসার দুদিনের মাথায় তাকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি। এরপর সেখানে তাকে বারাসাত আদালতের মাধ্যমে ১২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সেখানে তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পাওয়া যায়। হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পলাতক আসামি ছিলেন সিয়াম হোসেন। নেপালে আত্মগোপন করলে তাকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। এরপর তাকে ভারতে আনা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যমতে, বাগজোলা খাল থেকে বেশকিছু হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-৪ আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য আনার কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। গত ১১ মে তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। প্রথমে কলকাতার বরাহনগরে তার বন্ধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। এরপর স্থানীয় থানায় জিডি করেন গোপাল বিশ্বাস। তদন্ত শুরু হয় দুই দেশে। ২২ মে সকালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর আসেÍ নিউটাউনের এক বাড়িতে খুন হয়েছেন এমপি আনার। এরপরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতের পুলিশের বরাতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close