প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সাগর শুকিয়ে মরু

বেরিয়ে এলো মাটি, ডুবে যাওয়া জাহাজ

উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তানের মাঝামাঝিতে বিশাল এলাকা জুড়ে অবস্থিত হ্রদটির নাম উরাল সাগর। এই বিশাল হ্রদে টলমলে পানিতে ঘুরে বেড়াত নানা সামুদ্রিক মাছ। তীরবর্তী জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার উৎস ছিল এই উরাল সাগর। অথচ কয়েক দশকের ব্যবধানে সেই হ্রদের পানি উধাও, সেখানে এখন ধূধূ মরুভূমি, পানির লেশমাত্র নেই। বেরিয়ে এসেছে ডুবে যাওয়া মরচে ধরা বেশ কিছু জাহাজ। যেসব নদীর পানি এসে পড়ত এই উরাল সাগরে, সেসব নদীর মুখে বাঁধ দিয়ে প্রবাহ ঘুরিয়ে দেওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানি বাষ্পীভূত হওয়ায় হ্রদের পানি উধাও হয়ে যায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ছে। উষ্ণায়নের কুফল নিয়ে বিজ্ঞানী-পরিবেশবিদদের নানা পূর্বাভাস এবং সতর্কীকরণ নতুন নয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় দেড় ডিগ্রি বেশি। কিন্তু উষ্ণায়নের এই ধরনের প্রতিকূল প্রভাব স্পষ্ট হওয়ার এক দশকেরও বেশি আগে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে উরাল। বদ্ধ হ্রদের জল শুকিয়ে গেছে ২০১০ সাল নাগাদ।

এখন সেখানে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে ধূধূ প্রান্তর। গাছপালাও বিশেষ নেই। ৬৮,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল উরাল সাগর। এটি পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম বদ্ধ জলাশয়। উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রায় ৪৩৫ কিলোমিটার এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে ২৯০ কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত। ষাটের দশক থেকে ধীরে ধীরে উরাল সাগর সংকুচিত হতে শুরু করে। উড়ালের ‘অন্তর্ধান’ রহস্য নিয়ে গবেষণা শুরু করে আমেরিকার গবেষণা সংস্থা নাসা।

বিজ্ঞানীদের দাবি, যে নদীগুলো থেকে এই হ্রদে জল আসত, সেগুলোর মুখ সাবেক সোভিয়েত রাশিয়া সেচ প্রকল্পের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার পর প্রথম সংকট দেখা যায় উরাল সাগরে। কৃষিজমি তৈরির জন্য সির দারিয়া এবং আমু দারিয়া নামের নদীগুলোর মুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার পর পানির প্রবাহ কমে যায়। এ ছাড়া পরিবেশকে বিবেচনায় না এনে অবৈজ্ঞানিকভাবে খাল কাটার কারণে উরাল সাগরের জলরাশির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় বলে দাবি বিজ্ঞানীদের। অন্যদিকে, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবও পড়ে উরাল সাগরে। দুই কারণে কয়েক দশকেই বাষ্পীভূত হয়ে যায় উড়ালের পানি। হ্রদটির কিছু অংশ বাঁচানোর শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে কাজাখস্তান উরাল সাগরের উত্তর এবং দক্ষিণ অংশের মধ্যে একটি বাঁধ তৈরি করেছে। বর্তমানে হ্রদের সামান্য অংশই অবশিষ্ট রয়েছে।

এদিকে, উরাল সাগর শুকিয়ে যাওয়ায় কারণে সমস্যার মুখে পড়েছেন উজবেকিস্তানের বাসিন্দারা। প্রচণ্ড জলকষ্ট দেখা দিয়েছে। সেখানকার মানুষের শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। মৎস্যজীবীরাও পুরোনো পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

জাতিসংঘের মতে, উরাল সাগর শুকিয়ে যাওয়া ২১ শতকের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। টুকু অংশ অবশিষ্ট রয়েছে, তা সংরক্ষণের জন্য উজবেকিস্তানের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। সূত্র : আনন্দবাজার।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close