নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১১ মে, ২০২৪

রাজনীতিবিদ হায়দার আকবর খান রনো আর নেই, সমাহিত হবেন বাবা-মার পাশে

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) উপদেষ্টা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধেহ সংগঠক হায়দার আকবর খান রনো আর নেই। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

এদিকে হায়দার আকবর খান রনোর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার এক শোক বিবৃতিতে তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আগামী সোমবার (১৩ মে) প্রথমে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেশবাসীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানীতে বাবা-মার কবরের পাশে কমরেড রনোকে সমাহিত করা হবে বলে জানা গেছে।

সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জলি তালুকদার জানিয়েছেন, হায়দার আকবর খান রনো শুক্রবার রাত ২টার দিকে রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসতন্ত্রের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তিনি একমাত্র মেয়ে রানা সুলতানাসহ বিপুল সংখ্যক আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন।

জলি তালুকদার বলেছেন, ‘প্রবীণ বামপন্থী নেতা রনো তার ধানমন্ডির বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় তিনি গুরুতর অসুস্থ অনুভব করলে তাকে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

জানা গেছে, কমরেড হায়দার আকবর খান রনো মরণোত্তর চক্ষুদান করে গিয়েছিলেন। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সন্ধানীর চিকিৎসকরা গতকাল ভোর পাঁচটার দিকে কমরেড রনোর কর্নিয়া সংগ্রহ করে। পরে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে গোসল শেষে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় কমরেড রনোর মরদেহ আত্মীয়, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য রাখা হয়। সেখানে মরদেহ দেখতে ভিড় করেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

এদিকে কমরেড রনোর পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তার মরদেহ রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালের মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে। তার নিকট আত্মীয়-স্বজন ও নাতিরা বিদেশ থেকে দেশে ফিরলে আগামী সোমবার কমরেড রনোর শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ও দাফন অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম গতকাল এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, কমরেড হায়দার আকবর খান রনোকে সোমবার (১৩ মে) শেষ বিদায় জানানো হবে। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ পুরানা পল্টনের সিপবি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাখা হবে। সেখানে থেকে শোকযাত্রার মাধ্যমে কমরেড রনোর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে দুপুর ১২টা থেকে ১টা তার মরদেহে দেশবাসীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। ১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে তার জানাজার নামাজ হবে। পরে বনানীতে বাবা-মার কবরের পাশে কমরেড রনোকে সমাহিত করা হবে।

হায়দার আকবর খান রনো ১৯৪২ সালের ৩১ আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যখন ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তখনই তিনি কমিউনিস্ট পার্টির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৩-১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি তৎকালীন ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন’র সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি সরাসরি শ্রমিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির সদস্য ছিলেন। পরে ২০০৮ সালের দিকে তিনি সিপিবিতে তিনি যোগ দেন। হায়দার আকবর খান রনো রাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন এমনকী সাহিত্য ও বিজ্ঞানের ওপরও অনেকগুলো বই লিখেছেন। তিনি ২০২২ সালে মর্যাদাপূর্ণ ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন।

কমরেড রনোর লেখা বইয়ের সংখ্যা ১৩। ‘শতাব্দী পেরিয়ে’ তার আত্মজীবনী। এছাড়া আছে: ফরাসি বিপ্লব থেকে অক্টোবর বিপ্লব, পুঁজিবাদের মৃত্যুঘণ্টা, কোয়ান্টাম জগৎ- কিছু বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক প্রশ্ন, মানুষের কবি রবীন্দ্রনাথ, বাংলা সাহিত্যে প্রগতির ধারা (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড), পলাশী থেকে মুক্তিযুদ্ধ (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড), নির্বাচিত প্রবন্ধ (প্রথম খণ্ড), মার্কসবাদের প্রথম পাঠ, মার্কসীয় অর্থনীতি সহ অন্যান্য।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close