reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৮ নভেম্বর, ২০২৩

তিন বছরে  ৪৮ লাখ এনার্জি ইউনিট বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা উদঘাটিত

আরো কার্যকর, গতিশীল ডিপিডিসি 

চুরি রোধ করে ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

ডিপিডিসির কোম্পানি সচিব মো. আসাদুজ্জামান ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তার কর্মনিষ্ঠা আর সে সঙ্গে টিম ওয়ার্ক যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর, আরো গতিশীল করে তুলতে পারে। এ রকমই একটি উদাহরণ- ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। একের পর এক অভিযান পরিচালনা করে বিদ্যুৎ চুরি রোধ, বকেয়া বিল আদায়ে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে; অর্জনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে ডিপিডিসির। সে সঙ্গে সিস্টেম লস কমানো, অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হার বাড়ানো, দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় পুরো বদলে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। রেকর্ড পরিমাণ চুরির ঘটনা উদঘাটন করাসহ প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এমনকি ডিপিডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতেও বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব সহকর্মীর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানের এমন ইতিবাচক পরিবর্তনের নেপথ্য নায়ক ডিপিডিসির কোম্পানি সচিব মো. আসাদুজ্জামান।

সূত্র জানায়, ৩ বছরে প্রায় ৪৮ লাখ এনার্জি ইউনিট বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে, যার বিপরীতে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। যা ডিপিডিসির ইতিহাসে রেকর্ড। এ ছাড়া এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিটার পরিদর্শন করে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ বিদ্যুৎ চুরির দায়ে ৩৫ জন গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ চুরি, বিদ্যুতের দালাল এবং দুর্নীতিবাজ সিএসএস কর্মীদের ব্যাপারে সতর্ক করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য এনওসিএস দপ্তরে, হটলাইন, ওয়েবসাইট এবং স্পেশাল টাস্কফোর্সের দপ্তরে যোগাযোগ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মো. আসাদুজ্জামানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রায় ২৪ লাখ টাকা পেনাল বিল আদায় করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ডিপিডিসির কামরাঙ্গীরচর উপকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত মামলায় রায়ের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে এবং কেস ম্যানেজমেন্ট ও মনিটরিং সফটওয়্যার’-এর মাধ্যমে ডিপিডিসির সব মামলার তথ্য নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করার কারণে মামলা সংক্রান্ত বিষয়াদিতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্পেশাল টাস্কফোর্স পরিচালনার মাধ্যমে ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় গ্রাহকের দোরগোড়ায় গিয়ে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা উদঘাটন করা, সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণসহ বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অনিয়ম রোধ করার ফলে হারানো রাজস্ব পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কয়েক বছর ধরে ডিপিডিসির আওতাভুক্ত এলাকায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে এক এক করে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা উদঘাটন করা হয়েছে। তাতে করে ব্যাপক হারে চুরি হওয়া এনার্জি ইউনিট পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যেখানে এনওসিএস দপ্তরগুলোর অগোচরে যে বিদ্যুৎ চুরি হতো, সেখানে বিদ্যুৎ চুরি ক্রমান্বয়ে বন্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে সিস্টেম লস কমানো হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করায় এলাকায় বিদ্যুৎ চুরির প্রবণতাও কমেছে। বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকরাই স্বপ্রণোদিত হয়ে টাস্কফোর্স টিমের কাছে তথ্য দিচ্ছেন। বিভিন্ন অনিয়মে যুক্ত দালাল বা মিটার রিডারদের ব্যাপারেও গ্রাহকরা আরো সতর্ক হয়ে উঠেছেন। এর আগে না হলেও এবার বিপুল পরিমাণ অবৈধ মিটার জব্দ করা হয়েছে।

স্পেশাল টাস্কফোর্সের ওপর এনওসিএস দপ্তরগুলোর আস্থা বেড়েছে। কারণ যে সব এনওসিএস দপ্তরে বিদ্যুৎ চুরির বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়, সে সব স্থাপনায় টাস্ক ফোর্স কর্মীরা অতিদ্রুত অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ও করছে।

গ্রাহককে সরাসরি বিদ্যুৎ চুরি করতে সহায়তা করার অপরাধে এরই মধ্যে কাস্টমার সাপোর্ট সার্ভিসের আওতায় আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঠিকাদার কর্তৃক নিয়োগকৃত ৬৮ জন কর্মীকে অপসারণ এবং ডিপিডিসির ৭ জন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিলুপ্ত ডেসা নামক ডিপিডিসির একটি সেল দীর্ঘ দিন ধরে চলমান ছিল যেখানে ডেসা আমলের বেশ কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, পেনশন সংক্রান্ত জটিলতা ছিল। মো. আসাদুজ্জামান তার দূরদর্শিতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ও সুপারিশ করে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। পরে মন্ত্রণালয় ডেসা সেলকে একেবারেই বিলুপ্ত করে। সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল মোকাবিলা করে ডিপিডিসি পক্ষে রায় আনা সম্ভব হয়। তা প্রতিষ্ঠানের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে৷

ডিপিডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসার জন্য প্রথমবারের মতো কম খরচে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে ঢাকার স্বনামধন্য ৫টি হাসপাতালের (ল্যাবএইড, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হসপিটাল, ইউনাইটেড হসপিটাল, এভার কেয়ার ও আসগর আলী) সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো মেডিকেল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসহ ড্যাশ বোর্ড আপগ্রেড করা হয়েছে। আইসিসিডিডিআরবির সহায়তায় সব কর্মচারীর ব্লাড স্ক্রিনিং করা হয়। এসব উদ্যোগ এ প্রতিষ্ঠানে প্রথমবারের মতো নেওয়া হয়।

ডিপিডিসির কোম্পানি সচিব মো. আসাদুজ্জামান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান সেবাধর্মী। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। এ কারণে আমার মতো কর্মচারীরা জনগণের সেবক। আমি আমার জায়গা থেকে অর্পিত দায়িত্বই শুধু পালন করছি। ডিপিডিসির চেয়ারম্যান মহোদয়ের সঠিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উৎসাহ ও সহযোগিতা ছাড়া এসব উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল না। আমি তাই তাদের কাছে কৃতজ্ঞ’।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ডিপিডিসির কোম্পানি সচিব মো. আসাদুজ্জামান
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close