reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৩ এপ্রিল, ২০২৪

গ্রেপ্তার-সংঘর্ষের মধ্যেও ভারতে লড়ে যাচ্ছেন মোদিবিরোধীরা

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের বিধানসভার নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ হচ্ছে সেই প্রশ্ন এখন ঘুরে ফিরে সামনে আসছে। বিরোধীরা এ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এক্ষেত্রে তারা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করেছেন। কারণ তিনি লেভেল প্লেইয়িং ফিল্ড তৈরিতে বাধা দিচ্ছেন।

বিজেপি তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে চাইছে, জনমত জরিপেও তারা এগিয়ে আছে। কিন্তু বিরোধী দলের জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুব কম ভোটেই জিততে দেখা গেছে।

গত বছরের জুলাইয়ে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস মোদি সরকারকে হটাতে ছোট ও আঞ্চলিক দলগুলোকে নিয়ে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স (ইন্ডিয়া) নামের একটি জোট গঠন করে।

বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, সরকার তার তদন্তকারী সংস্থা এবং অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতা বিস্তার করছে। কিন্তু মোদি বিরোধীদের এ অভিযোগকে অজুহাত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

তবে বিরোধীদের এ অভিযোগ যে সত্যি তা প্রমাণ করেছেন মোদি সরকার। বিরোধী দলের নেতা ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ঝারখন্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে দুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বলছেন সরকার রাজনৈতিক ফায়দা নিতে তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল মোদি সরকারের একজন কট্টর সমালোচক। কিন্তু গত মাসে তাকে জেল হেফাজতে নেওয়ার ফলে কংগ্রেসের হয়ে এ নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে পারছেন না তিনি।

গত এক দশক আগে বিজেপি ক্ষমতায় আসে। এ সময়ের মধ্যে শতাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতের ফেডারেল এজেন্সি তদন্ত করে। যার মধ্যে ৯৫ শতাংশ নেতা হলেন বিরোধী দলেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়। এ ঘটনার পর অনেকেই বিজেপিতে যোগ দেয়। দুর্নীতির দায়ে এদের মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্তে শুরু হলে তারা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর ২৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

এখানেই শেষ নয়, গত ফেব্রুয়ারিতে কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেছেন, মোদি সরকার কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো কর বিভাগ দ্বারা জব্দ করেন। যাতে নির্বাচনের কার্যক্রম চালাতে ঝামেলায় পড়তে হয়। কিন্তু কর বিভাগ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এছাড়া ডিসেম্বরে ভারতের সংসদ থেকে বিরোধী দলের ১৪০ জনের বেশি এমপিকে বরখাস্ত করা হয়। সংসদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাদের বরখাস্ত করা হয়।

ওই একই মাসে মোদি সরকারের কট্টোর সমালোচক এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রকে প্রশ্ন করার দায়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এনে সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। যদিও তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ ছাড়াই এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও এবারের নির্বাচনে তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে আবার নির্বাচন করছেন।

এছাড়া গত গ্রীষ্ম মৌসুমে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে ফৌজদারি মামলায় তিন মাসের জন্য সংসদ সদস্য থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে যদিও আপিলে আদালত তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ স্থগিতের রায় দেন।

মার্চে রাহুল গান্ধী তার দলের জব্দকৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রকাশের জন্য একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সম্মেলেন তিনি বলেন, ভারতীয় বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিজেপি তার এ কথার পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়।

মানবাধিকার গোষ্ঠী অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, বিরোধীদের ওপর দমন পীড়ন এবারের নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।

সাংবাদিক ও লেখক নির্জা চৌধুরী বলেন, কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ এবং কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তার সবই রাজনৈতিক কারণে করা হয়েছে।

এদিকে বিজেপি বলছে, ২০২৪ সালের আর কোনো আগামীকাল নেই। আমরা যদি তাদের অবস্থানে থাকতাম তাহলে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে আমরা এ নির্বাচনে লড়াই করতাম। যদি তাতে আমরা হেরে যেতাম তাহলে ২০২৪ সালের আগামীকাল আছে সেটা বলার সুযোগ হতো। সূত্র: বিবিসি

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
নরেন্দ মোদি,ভারত,বিজেপি,পশ্চিমবঙ্গ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close