লালমনিরহাট প্রতিনিধি

  ০৭ জুলাই, ২০২৪

আদিতমারীতে অভিযোগ

চিরকুট লিখে `আত্মঘাতী' প্রবাসীর স্ত্রী, নির্যাতন 

ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ‘চিরকুট’ লিখে এক সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রী আখি মনি (১৭) গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।

শনিবার (৬ জুলাই) সকালের দিকে উপজেলার আদিতমারি পশ্চিমপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আখির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে আখির পরিবারের দাবি তাকে প্রতিনিয়িত নির্যাতন করায় তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। এ ঘটনায় শনিবার দুপুর ১২টার দিকে থানায় অভিযোগ করেন আখির বাবা আইনুল হক। রবিবার (৭ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেন আদিতমারী থানার (ওসি) মাহমুদ উন নবী।

আখি মনি উপজেলার সৌদি আরব প্রবাসী শাকিল মিয়ার স্ত্রী এবং লালমনিরহাটের তালুক খুঁটামারা বত্রিশ হাজারী গ্রামের আইনুল হকের মেয়ে।

জানা যায়, শাকিলের সঙ্গে ১০ মাস আগে ভিডিও কলের মাধ্যমে বিয়ে হয় আখির। এরপর থেকে আখি বাবার বাড়ি থেকে লালমনিরহাট ফজলুল করিম বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। শনিবার সকালে আখির শশুর নূর মোহাম্মদ তাকে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে আখির শোবার কক্ষে একটি খণ্ড খণ্ড চিরকুট পাওয়া যায়। খণ্ড খণ্ড চিরকুট মিলিয়ে দেখা যায়, এতে লেখা রয়েছে ‘আব্বু-আব্বু তোমরা আমাকে ক্ষমা করো। তোমরা আমাকে আগামীকাল সকাল ১১টায় নিয়ে যাবা, আমার জীবনে কিছু পাওয়ার নেই। তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।’

এ বিষয়ে আখির বাবা আইনুল হক বলেন, তার মেয়ে রাতে ফোন দিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ীর নির্যাতনের কথা বলেছে। রাতেই তাকে নিয়ে আসতে বলেছিলো। তিনি সকালে নিতে যাবেন বলেছিলেন। তার আগেই তার মৃত্যু হলো। আখি নির্যাতনের শিকার হয়ে ‘আত্মঘাতী’ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে আখির শ্বশুর-শাশুড়ির বক্তব্য নিতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ওসি মাহমুদ উন নবী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আখি ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার বাবা অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে মামলা রেকর্ড করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পিডিএস/আরডি

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
লালমনিরহাট,আদিতমারী,আত্মহত্যা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close