তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

  ০৭ জুলাই, ২০২৪

বেহাল ২৯ সেতু, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

তালতলীতে সওদাগর পাড়া ও কবিরাজ বাজার সংলগ্ন ঝুকিপূর্ণ সেতু -প্রতিদিনের সংবাদ

বরগুনার তালতলীতে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ২৯টি লোহার সেতু ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ সেতু অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই প্রতিনিয়ত পারাপার হচ্ছে মানুষসহ যানবাহন। সেতুগুলো পুনরায় নির্মাণ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে 'হালকা যান চলাচল প্রকল্প' এর অধীনে ২৯টি লোহার সেতু নির্মাণ করা হয়। এরপর সেতুগুলো আর সংস্কার করা হয়নি।

ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো হলো, তালতলীর মাছ বাজার সংলগ্ন সেতু, ছোটভাই জোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সেতু, তালুকদার পাড়া বিদ্যালয় সংলগ্ন, বারঘর বাজার, সওদাগর পাড়া ও কবিরাজ পাড়া বাজার, উত্তর সওদাগর পাড়া প্রাথমিক সংলগ্ন, দক্ষিণ সওদাগর পাড়া প্রাথমিক সংলগ্ন, বেহালা ও নানুর বাজার, নলবুনিয়া হিন্দু বাড়ি সংলগ্ন, কড়ইবাড়িয়া মুন্সি বাড়ি সংলগ্ন, পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন এর ভিতরের বাজার, পচাকোড়ালিয়া বড় পাড়া প্রাথমিক সংলগ্ন ঝুকিপূর্ণ সেতু। এছাড়া অরো অনেক গুলো সেতু রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর, ২০০৯ সালে আইলা, মহাসেন, বুলবুল সহ বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজলোর সেতুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেকগুলো সেতুর হাতল, অ্যাঙ্গেলসহ অন্য মালামাল চুরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে ধসে পড়া কিছু সেতুর স্থানে স্থানীয় লোকজন বাঁশ, সুপারিগাছ দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াত করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা শহরের খোট্রার চর-মাছ বাজার এলাকার সেতুটির নিচের লোহার পাইলিং ভেঙে গিয়ে আলাদা হয়ে গেছে। বন্যার আঘাতেও বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে তাই কাঠের পাটাতন দিয়ে মানুষ চলাচল করছে। এ ছাড়া সেতুর একদিকে হেলে পড়েছে, ছোট কোনো যানবাহনও চলাচল করতে পারে না। অথচ পথে প্রতিদিন শত-শত মানুষ পারাপার হন। বর্তমানে সেতু পারাপারের অনুপযোগী। যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই অবস্থা অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর।

ছোট ভাইজোড়া এলাকার খালেদ মাসুদ জানান, এলাকার ৪টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন তিনটি বিদ্যালয়ের কয়েক শত শিক্ষার্থী।

নিশান বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু জানান, খোট্টারচর সেতুটি দিয়ে অন্তত ৫ গ্রামের মানুষ শহরে যাতায়াত করেন। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় তাদের। সেতুটি দিয়ে গাড়ি চলাচল না করায় রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সুব্যবস্থা নেই। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। জরুরী ভিত্তিতে সেতুটি পুনরায় নির্মাণ প্রয়োজন। তালুকদার পাড়ার এনায়েত শিকদার বলেন, আমাদের বারঘর, সওদাগর পাড়া ও তালুকদার পাড়া এই তিনটি সেতুর বেহাল অবস্থা। হরিন খোলা মাদরাসা, তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তালুকদার পাড়া প্রাথমিকের ছাত্র-ছাত্রী ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু গুলো পারাপার হয়।

সওদাগর পাড়ার ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান জানান, তার ওয়ার্ডে দুইটি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সওদাগর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয়রা ৩ কিলোমিটার পথ বেশি হেটে চলাচল করতে হয়।

জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর মধ্যে কতগুলো সংস্কার ও পুনরায় নির্মাণ সেটা নির্ণয় করে বাজেট আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর বরাদ্দ পেলে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সংস্কার ও পুনরায় নির্মাণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত আনোয়ার তুম্পা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে ও উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন তিনি। তারা আশ্বাস্থ করেছেন শীঘ্রই এসব সেতুর সংস্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
বরগুনার তালতলী,সেতু ঝুঁকিপূর্ণ,সংস্কারের অভাব
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close