সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

  ২০ জুন, ২০২৪

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা 

অর্থকষ্টে চিকিৎসাহীন গুণী শিল্পী মনিরুল

অর্থকষ্টে চিকিৎসাহীন গুণী শিল্পী মনিরুল।ছবি: সংগৃহীত

বিটিভি ও বেতারের শিল্পী মনিরুল ইসলাম খোকনের (৬০) দিন কাটছে অর্থকষ্টে ও বিনা চিকিৎসায়। এই শিল্পীর বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের খান বানিয়ারা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে ও দুই সন্তানের জনক। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিজ বাড়িতেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। খোকনের স্ত্রী সুফিয়া আক্তার ঝর্ণা স্বামীর চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

বুধবার (১৯ জুন) খোকনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাল্যকাল থেকেই সংগীতে পদার্পণ মনিরুল ইসলাম খোকনের। তিনি সংগীতের ওপর ঢাকায় বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে সহস্রাধিক গানের গীতিকার এবং নিজের লেখা ১২০টি গানের সুর করেছেন। ১৯৭৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হওয়ার পর অনেক টাকা ব্যয়ে সুস্থ হন তিনি। এরপর থেকে গানের শিক্ষকতা করে চালাতেন সংসার। মাঝে মধ্যে বেতার ও টিভিতে ডাক পড়লে গান রেকর্ডে পেতেন সম্মানী।

তার বেশ কিছু গান জনপ্রিয়তা পায়। বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচার হয় সে গানগুলো। এ ছাড়া তার লেখা অনেক গান গেয়েছেন দেশের স্বনামধন্য সংগীত শিল্পী কনকচাঁপা, শাকিলা জাফর, এম এ হামিদসহ অনেকেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তার নিজের লেখা গানে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন নিজেই। সংগীতে অবদানের জন্য পেয়েছেন একাধিক পুরস্কারও। ২০১৯ সালে তার হার্ট অ্যাটাক হয়। যার জন্য কোনো অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনের সুযোগ পান না তিনি। জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে পান সামান্য সম্মানী ভাতা।

এরপর বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে গান রেকর্ডের জন্য আর ডাকা হয় না। নেই কোনো আয়ের উৎস। উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকেও বাদ পড়লে অর্থ সংকটে পড়েন তিনি। ২০২২ সাল পর্যন্ত সংগীত সাধনা চালিয়ে যাওয়া অসুস্থ মনিরুল ইসলাম খোকনের শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার হার্টের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পেসমেকার স্থাপন করা জরুরি। এতে খরচ হবে ১০ লাখ টাকা। তার পক্ষে এ ব্যয় মেটানো সম্ভব নয়। পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকার। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটছে গুণী শিল্পী খোকনের।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পলাশ কুমার বসু বলেন, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কয়েক দিনের মধ্যে তাকে কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া অসহায় ও দুস্থ সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুদানের জন্য তার একটা আবেদন এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক স্যার বরাবর পাঠানো হয়েছে।

পিডিএস/আরডি

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মানিকগঞ্জ,সিংগাইর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close