reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৫ জুন, ২০২৪

মোয়াজ্জেমপুরে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ২নং মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (১৫ জুন) খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় অসহায়, দুস্থ, গরীব ও ছিন্নমুল মানুষের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ভ্যালনারেবল গ্রুপ ফিডিংয়ের (ভিজিএফ) বিনামূল্যে চাল বিতরণে পরিমাণে কম দেওয়াসহ নানাবিধ অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে।

স্থানীয় ও সরেজমিন পরিদর্শনে জানা গেছে, মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নে দুই হাজার ৭২৫ জন উপকারভোগীর মাঝে বিনামূল্যে জনপ্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ রয়েছে। অত্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাছলিমা আক্তার শিউলী, ইউপি সচিব সজিব চৌধুরী ও মাহফুজুর রহমান নামে একজন সরকারি কর্মচারী ট্যাগ অফিসার হিসেবে উক্ত ভিজিএফের চাল বিতরণে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিতরণকালে একই যুবক ও শিশু একাধিকবার ৪/৫টি করে ভিজিএফ কার্ড নিয়ে চাল উত্তোলন করতে দেখা যায়।

এ ছাড়াও প্রতি কার্ডে দুই থেকে আড়াই কেজি করে চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক পরিবারে একাধিক ভিজিএফ কার্ড প্রাপ্ত হয়েছে। তবে মোয়াজ্জেপুর ইউয়িনের মোয়াজ্জেমপুর ও কালেঙ্গা গ্রামের বেশ কিছু শিশু ও যুবক ১০ টাকার বিনিময়ে চাল ব্যাপারী সাইফুর ওরফে সাইদুরের হাতে থাকা শতাধিক কার্ডের চাল তুলে দিচ্ছেন।

মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের কালামের ছেলে সুমন (১৩), কালেঙ্গা গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে নাসির (১৮) ও রিয়াদ (২২) নামে আরেক যুবককে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায় যে, কার্ড প্রতি ১০ টাকার বিনিময়ে বেপারী সাইকুল ওরফে সাইদুরের পক্ষে চাল তুলে দিচ্ছেন। তবে কার্ড কোথায় পেয়েছেন এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সেই কার্ড ওই বেপারীই দিয়েছেন বলে জানায়।

এ বিষয়ে ওই ব্যাপারীকে খোজঁ করতে গেলে সে চালের বস্তা ফেলে রেখে তাৎক্ষণিক পালিয়ে যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের মেম্বার মোস্তফা কামাল বলেন, 'আমি ৯৫টি কার্ড পেয়ে তা জনগণকে বিলিয়ে দিয়েছি, এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।'

কালেঙ্গা গ্রামের আব্দুল গণি জানান, আমি মেম্বার হিসেবে ৯৫টি কার্ড ও দলের হয়ে ৫০টি কার্ড যথাযথভাবে বিলি করেছি, কিন্তু কে কি করছে তা আমার জানা নেই। কিন্তুু ইউপি চেয়ারম্যানের নিজ কক্ষের ভেতরে ভিজিএফের চালের বস্তা গুদামজাত করতে দেখা যাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, 'এখানে ১০টি চালের বস্তা আলাদা রাখা হয়েছে। এগুলো পরে বিতরণ করা হবে।'

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান তাছলিমা আক্তার শিউলীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, 'এগুলো আমার দেখার বিষয় নয়। আমি কার্ড দেখে মাল দিয়েছি।'

নান্দাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ বলেন, 'আমি স্টেশনে নাই, এরপরেও কি হয়েছে, জানার চেষ্টা করছি।'

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরুণ কৃষ্ণ পাল বলেন, 'বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।'

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মোয়াজ্জেমপুর,ভিজিএফের চাল
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close