কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

  ১৫ জুন, ২০২৪

বিয়ের চার মাসেই লাশ হলেন মিম, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

প্রতীকী ছবি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় বিয়ের চারমাসের মাথায় মিম (১৬) নামে এক বালিকা বধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রামনগর গ্রাম থেকে গৃহবধূ মিমের মরদেহ উদ্ধার করে মিরপুর থানা-পুলিশ।

মিমের বাবার দাবি যৌতুকের টাকার জন্য তার মেয়ে হত্যা করে ঝুলে দেওয়া হয়েছে।

মিম উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা শাজাহান আলীর মেয়ে এবং উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা সুজনের স্ত্রী। সে স্থানীয় শ্রীরামপুর মোজাদ্দেদিয়া দাখিল মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিবারিকভাবে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেয় বলে নিশ্চিত করেন প্রধান শিক্ষক আজিজুল ইসলাম।

মিমের বাবা আলমসাধু চালক শাজাহান আলীর বলেন, বিয়ের সময় সুজনের পরিবারের দাবি অনুযায়ি নগদ দেড় লাখ টাকা, রিফ্রিজারেট, গহনা, আসবাবসহ সংসারের জিনিস দেওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেছিলেন- এতগুলো টাকা ও জিনিস একসঙ্গে দিতে পারবেন না, আস্তে আস্তে পরিশোধ করে দিবেন। কিন্তু ১৫ দিন ওই টাকার জন্য মিমকে স্বামী সুজন ও শ্বশুর মোস্তফা মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে সুজনের বাবা ও আত্মীয় স্বজন এসে কথাবার্তা বলে মিমকে ৮ দিন আগে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যায়। এরপর থেকেই মিমের ওপর নির্যাতন করতে থাকে শ্বশুর মোস্তফা ও স্বামী সুজন।


  • যৌতুকের টাকার জন্য মারধরে বাড়ি থেকে তাড়ানো হয়
  • আটদিন আগে ফেরতে আনার পরও চলে মারধর
  • হত্যার পর ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

মিমের বাবা শাজাহান আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘শুক্রবার রাতভর মিমকে নৃশংসভাবে শারীরিক নির্যাতনের ফলে মিমের মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মিমের গলায় রশি পেঁচিয়ে ঘরের সিলিংয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।এমন কি রাত পেরিয়ে গেলেও মিমের মৃত্যু সংবাদটা আমাকে দেয়নি। মৃত্যু সংবাদ পেয়েছি স্থানীয় ইউপি মেম্বর শহিদুল ইসলাম রুনাইর মোবাইল ফোনে। মিমের মুখে কপালে, ঘাড়ের পিছনে ও দেহের বিভিন্নস্থানে আঘাতের কালসিরা চিহ্ন রয়েছে। লাশের দেহে এখনও সেসব চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। অথচ পুলিশ মিমের শ্বশুর বাড়ির লোক যেভাবে বলছে, আত্মহত্যা পুলিশও তাই বলছে। আমি তো আগে থেকেই জানি যে, আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হচ্ছে। লাশের দেহে এখনও আঘাতে চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম রুনাই জানান, ‘শনিবার সকালে জানতে পারি, সুজনের স্ত্রী মিম গলায় দঁড়ি দিয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, নিহতের কপালে থেতলে যাওয়া একটা আঘাতজনিত জখমের চিহ্ন ছিল, গলায় রশি পেঁচানোর দাগও রয়েছে। যতদুর শুনেছি, তাদের (সুজন ও মিম) মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। তার জেরেই এই ঘটনাটি ঘটেছে।’

অভিযোগ বিষয়ে জানতে সুজন আলী ও তার বাবা মোস্তফার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তার বন্ধ পাওয়া যায়।

মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ জানান, ‘খবর পেয়ে উপজেলার রামনগর গ্রামের এক গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে থানায়। লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যু কারণ যদি হত্যাকান্ড হয়, তাহলে সেই অনুযায়ী পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নিহতের পরিবারের দাবিকেও আমলে নিয়ে তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।’

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close