লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

  ১৯ নভেম্বর, ২০২৩

লামায় ৪৫ মাসেও চালু হয়নি হাসপাতাল কার্যক্রম

ছবি: প্রতিদিনের সংবাদ

চিকিৎসক সহ অন্যান্য পদে লোকবল সংকটে প্রায় ৪৫ মাসেও চালু হয়নি বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র হাসপাতালটি। দুর্গম পাহাড়ের মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতাল নিমার্ণের উদ্যোগ নেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। পরে বান্দরবান পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীরবাহাদুর উশেসিং এমপি ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে এটি উদ্ভোধন করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামে সুসজ্জিত হাসপাতালটিতে রয়েছে, তিনতলা বিশিষ্ট দুটি ভবন, ডেলিভারি রুম, আল্ট্রাসোনোগ্রাফিসহ নানা পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা। এটি চালু হলে লামা উপজেলার সরই ও এর আশেপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের হতদরিদ্র মহিলারা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। কিন্তু এখনো চালু না হওয়ায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

উদ্বোধনের এতোদিন পার হলেও চালু না হওয়াতে ক্ষোভ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা খালেদা আক্তার বলেন, আমরা স্থানীয় লোকজন হাসপাতালটার জন্য উদ্বোধনের আগে থেকেই অপেক্ষা করছি। কিন্তু উদ্বোধনের এতোদিন পরেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। মহিলাদের ডেলিভারির জন্য দূরে যেতে হয়। পাশাপাশি হতদরিদ্র মহিলাদের জন্য এটি ব্যয়বহুল।

উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জুবাইদা আক্তার বলেন, ইতোমধ্যে একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ না হওয়াতে হাসপাতালটি পুরোদমে চালু করা যাচ্ছে না। সব সংকট কাটিয়ে দ্রæত এটি চালু হবে এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ময়না বেগম বলেন, ‘বাড়ির পাশে হাসপাতালটি হওয়ায় খুব খুশি হয়েছিলাম। তবে অনেকদিন ধরে এটি পড়ে আছে, চালু হয়নি। চালু না হওয়ায় আমার প্রতিবেশী ফাতেমাকে পদুয়ায় গিয়ে ডেলিভারি করাতে হয়েছে।’

সরই ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস বলেন, গজালিয়া, আজিজনগর ও সরই ইউনিয়নের লক্ষাধীক চিকিৎসা প্রদানের জন্য ওই হাসপাতালটি নিমার্ণ হয়। তবে চালু না হওয়ায় প্রসূতিদের আমাদের পাশ্ববর্তী এলাকা চট্টগ্রামের লোহাগাড়া সদর অথবা পদুয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এতে গ্রামের দরিদ্র মানুষের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাছাড়া রাস্তার দুরবস্থার কারণে রোগীদের নিয়ে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ।

লামা পরিবার পরিকল্পনা মেড়িকেল কর্মকর্তা ডা. বাপ্পী বলেন, উদ্ভোধন পর থেকে সিকিউটি গাড মো. শাসসুল আলম ভবনের অবকাঠামো পাহারায় রয়েছে। আমরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিকে সাব সেন্টার দেখিয়ে কিছু ওষধপত্র মাসে দুইবার একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বান্দরবানের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা বলেন, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম কোনো রকম সচল রাখা হয়েছে।

পিডিএস/এস

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
লোকবল সংকট,বান্দরবানের লামা,সরই ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close