আলী আজীম, মোংলা (বাগেরহাট)

  ২৮ নভেম্বর, ২০২২

বহির্নোঙরে চুরি, জাহাজে ওয়াচম্যান রাখার পরামর্শ

ফাইল ছবি

সম্প্রতি মোংলা বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত দুটি জাহাজে চুরির ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এতে বন্দরের সুনাম ক্ষুণœ হয়েছে বলে অভিযোগ ও ক্ষোভ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, নিরপত্তা প্রহরী না থাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটছে। নিরাপত্তা প্রহরী (ওয়াচম্যান) থাকলে এ ধরনের চুরি সম্ভব হতো না বলেও মত তাদের।

জানা গেছে, মোংলা বন্দরে আগত-নির্গত পণ্যবাহী জাহাজে ওয়াচম্যান (নিরাপত্তা প্রহরী) সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন। ১৯৮৭ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং বন্দরের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী বন্দরে আগত-নির্গত জাহাজে ওয়াচম্যান নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বন্দরের বহির্নোঙরে (ফেয়ারওয়ে) অবস্থান নেওয়া জাহাজে শ্রমিক কর্মচারী বুকিং দেওয়া হলেও ওয়াচম্যান (নিরাপত্তা প্রহরী) দেওয়া হয় না। ফলে জাহাজের নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে এবং নানা রকম দুর্ঘটনা ঘটছে।

সম্প্রতি এ সমস্যায় পড়তে হয়েছে তিনটি বিদেশি জাহাজকে। গত ১১ জুলাই এমভি ব্লু মেরিন এবং ২২ নভেম্বর এমভি আস এলিনা জাহাজে চুরির ঘটনা ঘটে। এ দুটি জাহাজে নিরাপত্তা প্রহরী ছিল না। পরে অবশ্য ওইসব চুরি হওয়া মালামাল মোংলা এলাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে কোস্টগার্ড উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

মোংলা বন্দর স্টিভিডরিং ওয়াচম্যান ওয়েলফেয়ার সংঘের সাধারণ সম্পাদক বাবুল ফকির বলেন, ওয়াচম্যান বুকিং দেওয়া হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না। তিনি ওয়াচম্যান বুকিং দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টের প্রতি আহ্বান জানান।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী এইচ এম দুলাল বলেন, জাহাজে ওয়াচম্যান নিয়োগ থাকলে কোনো ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে না। অঘটন ঘটলে বন্দরের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। তাই শিপিং এজেন্টদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন শাহীন মজিদ বলেন, বন্দরে আগত জাহাজে চুরির ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত ও দুঃখজনক। তবে জাহাজে ওয়াচম্যান নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টদের সচেতন হতে হবে। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সুরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জাহাজ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close