খালেকুজ্জামান পান্নু, পাবনা

  ২২ নভেম্বর, ২০২২

হাজার হাজার হেক্টর জমির রবি ফসলের চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা 

ছবি: প্রতিদিনের সংবাদ

পাবনার সাঁথিয়ায় পাউবোর পানি নিষ্কাশন খালে অবৈধভাবে বাঁশের বেড়া দিয়ে ও সোঁতিজাল ফেলে মাছ শিকার করায় খালের পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে বিলের পানি বের হতে মন্থর গতিতে। ফলে কৃষকের বীজতলা তৈরিসহ রবি মৌসুমে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ, মরিচ, রসুন, সরিষার আবাদ ব্যাহত হওয়ায় আশংকা করছেন এলাকার কৃষকেরা। খালে সোঁতিজালের বাধের জন্য পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কমছে না প্রায় ১৬টি বিলের পানি।

অভিযোগে জানা যায়, বেড়ার কৈটোলা পাম্প হাউজ হতে মুক্তর ধর পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাকেশ্বরী নদীর-ডি-২ সেচখালের প্রায় ৩০ কিলোমিটার পানি নিস্কাশন ক্যানাল রয়েছে। এ ক্যানাল দিয়ে বর্ষা শেষে সাঁথিয়া-বেড়ার প্রায় ২০টি বিলের পানি নিষ্কাশন হয়। কাকেশ্বরী নদীর-ডি-২ পানি নিষ্কাশন সেচ খালটির উপর উপজেলার করমজা ইউনিয়নের শামুকজানি বাজারের দক্ষিণে ও দত্তপাড়া গ্রামের পশ্চিমে বড়গ্রাম মাঠের ভিটা নামক স্থানে পর পর কয়েক জায়গায় বাঁশের বেড়া ও সুতিজাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাকেশ^রী নদীর এই খাল দিয়ে উপজেলার বড়গ্রাম মৌজা, গোপিনাথপুর ও ঘুঘুদহ মৌজার আইরেদহের বিল, টেঙরাগাড়ির বিল, ঘুঘুদহ বড় ও ছোট বিল, মুক্তর ধর, সোনাই বিল, জামাই দহ, খোলসা খালি বিল, কাটিয়াদহ বিল ও গাঙভাঙ্গার বিল সহ অন্তÍত ১৬টি বিলের পানি নিস্কাশন হয়। কিন্ত পানি নিষ্কাশন সেচ খালটির ওপর সোঁতিজালের বাধ দেওয়ায় পানিপ্রবাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে চলতি আমন মৌসুমে জমিতে কিছুটা ধান পাকা শুরু হয়েছে। এছাড়া জমি জলাবদ্ধ থাকলে রবি মৌসুমে পেঁয়াজ, রসুন, গম, জব, খেসারি, কালাই ও সরিষার আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকার কৃষকেরা। তারা অভিযোগে বলেন, এসব ফসল যথাসময়ে বপন করতে না পারলে তারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ইতোমধ্যে চলতি আমন মৌসুমে জমিতে ধান পাকতে শুরু হয়েছে। আবার অনেকের ধান পেঁকে যাওয়ায় কাটতে শুরু করেছে। জমিতে অতিরিক্ত পানি থাকায় যথা সময়ে ধান কাটতে না পারলে জমিতে থাকা পাকা ধান পানিতে নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশংকা তাদের।

আফড়া চরপাড়া মহল্লার কৃষক জানে আলম সরদার ও রইজ উদ্দিন খাঁ বলেন, ‘বিলে আমাদের ১৫/১৬ বিগ্যে জমিতে আমন দান আছে, দান কাইট্যে পিঁজ, গম, সরিষার আবাদ করবো। যদি সোঁতির কারণে বিলির পানি আটক্যে থাকে তাহলি আমাগরে পিঁজির দানা চারা, মুলকাটা পিঁজ লাগানো ক্ষতি অয়া যাবি।’

সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ সঞ্জীব কুমার গোস্বামী বলেন, আমি এ ব্যাপারে মৌখিকভাবে কৃষকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অফিস এবং আমার অফিস বরাবর অভিযোগ দিতে বলেছি। সোঁতিজালের কারণে পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হলে আমন ধান কাটতে বিলম্ব হবে।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই বা কেউ আমাদেরকে জানায়নি। কেউ যদি এ ব্যাপারে আমাদেরকে জানায় যে, সোঁতিজাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে তাহলে আমি অপসারণের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুধাংশ কুমার সরকার বলেন, আমি খবর পাওয়ার পর পরই বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার। চিঠির অনুলিপি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে দিয়েছি।

তিনি বলেন, কৃষকের ক্ষতি হবে আমরা এমনটা মেনে নেব না। প্রয়োজনে সরেজমিন পরিদর্শন করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সাঁথিয়া,পাবনা,পানি নিষ্কাশন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close