ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

  ২০ নভেম্বর, ২০২২

নাতিকে মারধর, উত্তেজিত দাদার মৃত্যু

ঢাকার ধামরাইয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা রনি ও ছাত্রদল কর্মী ইমরান, আসিফ এবং তার বাবার সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা শুনে দাদা জয়নুদ্দিন (৫৫) ঘটনাস্থলে এসে নাতি ও ভাতিজার মারধরের প্রতিবাদ করেন। এ সময় তিনি ছিলেন উত্তেজিত। একপর্যায়ে তার হার্ট অ্যাটাক করে। পরে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জয়নুদ্দিন ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের স্বপন বেপারীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল হওয়া নিয়ে ফাহিম আহমেদ ইমরান তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি বিএনপি নামের ফেসবুক পেজের একটি পোস্ট শেয়ার করেন ইমরান। সেখানে লেখা ছিল, টেইক ব্যাক বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে।

ফাহিম আহমেদ ইরানের ফেসবুকে এমন পোস্ট দেখে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রনি হোসেন মারধর করেন আসিফ ও ইমরানকে। খবর শুনে আসিফের বাবা শুকুর আলী রনির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা রনি ও শুকুর আলীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। কুশুরা ইউনিয়নের সদস্য সারোয়ার হোসেন বাবু মারামারি থামিয়ে ঘটনাস্থল থেকে শুকুর আলী, আসিফ ও ইমরানকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে নিয়ে বসতে বলেন। পরে শুকুর আলীর চাচা জয়নুদ্দিন পরিষদে এসে ইউপি সদস্য সারোয়ার হোসেন বাবুর ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে জয়নুদ্দিন বুকে হাত দিয়ে নিচে পরে যান।

আসিফ বলেন, আমি এবং আমার বন্ধু ইমরানকে ডেকে নেয় রনি। আমাদের ডেকে নিয়ে মারধর ও হুমকি ধামকি দেয়। পরে আমার বাবা আসলে তাকেও মারধর করে রনিসহ তার সমর্থকরা। এরপর আমার দাদা জয়নুদ্দিন এলে তাকে বকাবকি করেন মেম্বার।

শুকুর আলীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রনি হোসেন বলেন, ইমরান, আসিফ প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। তাই ডেকে এনে ওদের বুঝিয়েছি ওরা যেন এসব পোস্ট আর না করে। পরে আসিফের বাবা এসে আমার সঙ্গে অযথা তর্ক করে। একপর্যায়ে আমার গায়ে হাত তুলে। আমিও পরে তাকে আঘাত করেছি। কিন্তু জয়নুদ্দিন মারামারির মধ্যে ছিলেন না। তাকে কেউ মারেনি।

ধামরাই থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনদের কোনো অভিযো না থাকায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মৃত্যু,মারধর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close