এস এইচ এম তরিকুল, রাজশাহী

  ১৩ অক্টোবর, ২০২২

উন্নয়ন-সৌন্দর্যে বদলে যাচ্ছে রাজশাহী নগরী

# প্রশস্ত সড়ক, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নির্মল বায়ু, সবুজ আর ফুলে ফুলে সাজানো সড়ক বিভাজক, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, দৃষ্টিনন্দন রাতের আলোকায়ন

উন্নয়ন-সৌন্দর্যে প্রতিনিয়তই বদলে যাচ্ছে রাজশাহী মহানগরী। প্রশস্ত সড়ক, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নির্মল বায়ু, সবুজ আর ফুলে ফুলে সাজানো সড়ক বিভাজক, স্থাপত্য ও কারুকাজ, উন্নত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, দৃষ্টিনন্দন রাতের আলোকায়নÑ এই নগরীকে করে তুলেছে আকর্ষণীয়। এরই মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হিসেবে দেশসেরা হয়েছে রাজশাহী মহানগরী।

এই নগরীকে সাজানোর সুনিপুণ কারিগর, আধুনিক রাজশাহীর রূপকার, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। নগরপিতার নিরলস পরিশ্রম, দূরদর্শী ও সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই রাজশাহীর আজকের এই খ্যাতি ও অর্জন বলে মন্তব্য করছেন নগরবাসী ও ভ্রমণকারীরা। পদ্মা নদী বিধৌত ৯৬ দশমিক ৭২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাজশাহীতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস।

২০১৬ সালে বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণা কমানোয় বিশ্বের সেরা শহর নির্বাচিত হয় রাজশাহী। পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশন দ্বিতীয়বারের মতো অর্জন করেছে জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২১। দেশের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে ‘এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলি সিটি অব দ্য ইয়ার সম্মাননা-২০২০’ অর্জনের খ্যাতিও রয়েছে এই নগরীর।

মেয়র লিটনের নিরলস প্রচেষ্টায় রাজশাহীর যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে এসেছে আমূল পরিবর্তন। প্রধান সড়কগুলোকে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। নগরীর বুধপাড়া এলাকায় রেলক্রসিংয়ে নির্মিত হয়েছে রাজশাহীর প্রথম ফ্লাইওভার। সেখানে অবশিষ্ট দুই লেনের আরেকটি ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। নগরবাসীর চলাচল নির্বিঘœ করতে আরো পাঁচটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে পাঁচটি প্রস্তাবিত ফ্লাইওভারের নকশা চূড়ান্ত হয়েছে। দেশের সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে সর্বপ্রথম টানেল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

নগরীর আলিফ লাম মীম ভাটার মোড় থেকে বিহাস পর্যন্ত প্রায় ১২ কিমি ফোর লেন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। বিলসিমলা রেলক্রসিং থেকে কাশিয়াডাঙ্গা মোড় পর্যন্ত বাইসাইকেল লেনসহ আধুনিক চারলেন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মিত হয়েছে বহুল প্রতিক্ষিত আলুপট্টি হতে তালাইমারী পর্যন্ত চার লেন সড়ক। নগর ভবন থেকে রাণীবাজার, মণিচত্বর থেকে সদর হাসপাতাল মোড় পর্যন্তসহ অনেক রাস্তা নাগরিকদের সুবির্ধার্থে প্রশস্ত করা হয়েছে। প্রতিটি সড়কের পাশে প্রশস্ত ড্রেন, ফুটপাত এবং সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে দৃষ্টিনন্দন আইল্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে উপশহর থেকে নগরভবন ও রাণীবাজার থেকে সাগারপাড়া সড়ক প্রশস্তকরণ, রেলস্টশন থেকে ভদ্রা হয়ে তালাইমারিসহ মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ৩০টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন সড়কের কার্পেটিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

রাসিকের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাসিক মেয়র লিটনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ‘রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে। আর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজশাহী পরিণত হচ্ছে মডেল মহানগরীতে। রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও নতুন রাস্তা এবং নর্দমা নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সিঅ্যান্ডবি মোড়ে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল নির্মিত হয়েছে। মহানগরীর যানজট নিরসনে ভদ্রা, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর, বর্ণালী, নতুন বিলসিমলা, বহরমপুর, রাজশাহী কোর্ট এবং নতুনপাড়া রেলওয়ে ক্রসিংয়ে বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী ফ্লাইওভার নির্মাণের নকশা প্রণয়নের কাজ শেষে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ১৯টি জলাশয়ের মধ্যে আটটিতে খনন ও সাইট ফিলিং কাজ এগিয়ে চলেছে। নগরীর গোলজারবাগ ঢালান পশ্চিমপ্রান্ত, লক্ষ্মীপুর বক্ষব্যাধী হাসপাতালের সম্মুখের পুকুর, লক্ষ্মীপুর নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালের সম্মুখে, সপুরা গোরস্থান-১ পুকুর, দড়িখরবোনা গোরস্থান, পবা নতুনপাড়া ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পূর্বপার্শ্বে, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন পুকুরের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।

থেমে থাকা বহুতল বাণিজ্যিক ভবনগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে যথাযথ উদ্যোগ। সিটি করপোরেশনের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি, মহানগরীর আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এর আওতায় অংশীদারত্বের ভিত্তিতে উদ্যোগী সংস্থার অর্থায়নে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কার্যক্রম অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

সড়ক, অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়নের পাশপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ২০০৯ সালে রাত্রীকালীন বর্জ্য আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম চালু করেন সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। যার ফলশ্রুতিতে একটি পরিচ্ছন্ন মহানগরীর উপহার পেয়েছেন নগরবাসী। নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আরো আধুনিকায়নে নির্মাণ করা হয়েছে ১০টি অত্যাধুনিক এসটিএস। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন ও প্রিজম বাংলাদেশ স্থাপন যৌথভাবে কাজ করছে। নগরীর সিটি হাট এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট। মেডিকেল ও ক্লিনিক থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে প্লান্টে নিয়ে গিয়ে সেখানে পরিশোধন ও অপসারণ করা হচ্ছে। ভারত সরকারের অর্থায়নে নগরীর পদ্মা পারিজাত লেক ও বিসিক সপুরা সিল্ক সংলগ্ন পুকুর এবং ছয়টি মন্দির সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে।

শিক্ষানগরী রাজশাহীতে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশলী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। রাজশাহীর প্রধানতম পর্যটন এলাকা পদ্মাপাড়। বিনোদনের অন্যতম এ এলাকাটি আরো আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করতে পদ্মাপাড়কে ঘিরে নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন, আরো নতুন প্রকল্প গ্রহণসহ নানাবিধ উন্নয়নের মাধ্যমে আগামীতে রাজশাহী আরো আধুনিক, নিরাপদ, বাসযোগ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সেরা শহরে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন রাসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজ মিশু।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
রাজশাহী
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close