এম কবির, টাঙ্গাইল

  ০৩ অক্টোবর, ২০২২

পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, নাগরপুরে ধর্মীয় সম্প্রীতি 

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়ি। বাড়ির একই আঙিনায় পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দির। ৫০ বছর ধরে সেখানকার মসজিদে চলছে আজান, আর মন্দিরে চলছে পূজা অর্চনা। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। মসজিদের পাশেই মন্দিরে হচ্ছে দুর্গাপূজা। আজান ও নামাজের সময় বন্ধ থাকছে পূজার কার্যক্রম। উভয় ধর্মের লোকজন বলছে তারা সব সময় সম্প্রীতির সঙ্গেই নিজ-নিজ ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

জানা যায়, নাগরপুর সদরের চৌধুরী বাড়িতে ৯০ বছর আগে বাংলা ১৩৩৯ সালে বা ইংরেজি ১৯৩২ সালের দিকে প্রতিষ্ঠা করা হয় উঝা ঠাকুর কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির। এই মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয়ে আসছে দুর্গাপূজা। মন্দির প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪০ বছর পর ১৯৭২ সালে একই আঙিনায় নির্মাণ করা হয় নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। একই স্থানে মসজিদ আর মন্দির নিয়ে কখনো কারো কোনো সমস্যা হয়নি। সবাই মিলেমিশে নিজেদের ধর্ম পালন করছেন।

সরেজমিন নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় মসজিদ ও দুর্গা মন্দিরে গিয়ে দেখা গেছে, মন্দিরে চলছে পূজা অর্চনা, উলুধ্বনি আর ঢাকের বাজনা। পূজারি ও দর্শনার্থীরা আসছেন প্রতিমা দেখতে এবং পূজায় অংশ নিতে। নির্ধারিত সময়ে আজান শুরুর আগেই থেমে যায় পূজার যাবতীয় কার্যক্রম। জানিয়ে দেওয়া হয় আজান এবং নামাজের পর আবার মন্দিরের মাইক, ঢাকঢোলসহ পূজার যাবতীয় কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর পাশের মসজিদ থেকে ভেসে এলো আজানের সুর। আজানের পর পরই নামাজিরা আসতে শুরু করলেন মসজিদে। নামাজ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার বেজে উঠল মন্দিরের মাইক, ঢাকঢোলসহ উলুধ্বনি। শুরু হয় পূজার কার্যক্রম।

নামাজি ও পূজারিরা জানান, এখানকার মানুষ শান্তিপ্রিয়, কোনো দিন কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। সবাই সম্প্রীতির সঙ্গে পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দিরে নিজ নিজ ধর্মের উপাসনা করে আসছেন। কোনো দিন কারো কোনো সমস্যা বা ঝামেলা হয়নি। তাদের প্রত্যাশা যুগযুগ ধরে চলতে থাকবে এই সম্প্রীতি। চৌধুরী বাড়ির সুপ্রিয় সাহা বলেন, বহু বছর আগে থেকে এখানে পূজা উদযাপিত হচ্ছে, পাশেই মসজিদ আছে। আমরা একত্রিত হয়ে পূজা উদযাপন করি। আমাদের অনেক ভালো লাগে।

অর্পিতা সাহা বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই এখানে পূজা দেখছি। দুর্গাপূজায় আমরা একত্রে আনন্দ করি। মন্দিরের পাশেই মসজিদ। আমরা যেমন মুসলমানদের ঈদে আনন্দ করি। তেমন আমাদের পূজায় মুসলমানরাও আনন্দ করে। আমরা সবাই এক সঙ্গে পূজার উৎসব উদযাপন করি।

চৌধুরী বাড়ি উঝা ঠাকুর কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির ক্লাবের সভাপতি লিটন কুমার সাহা পোদ্দার বলেন, মুসলিমরা আমাদের উৎসবে সহযোগিতা করেন।

মসজিদ কমিটির সদস্য খন্দকার লাভু মিয়া বলেন, চৌধুরী বাড়ি মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি। মুসলমানরা লক্ষ্য রাখি যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। আমরা তাদের পূজায় সহযোগিতা করি, তারাও আমাদের ঈদে সহযোগিতা করে। এতে আমাদের উভয় পক্ষের খুব ভালো লাগে। আমার জন্ম হওয়ার পর থেকে দেখি আসছি।

নাগরপুর থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এখানে প্রায় ৫০ বছর পর্যন্ত পূজা ও নামাজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রীতি বজায় রেখে উভয় ধর্মের লোকজন ধর্ম পালন করে আসছেন। এখানে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না। আমরা নাগরপুর থানার প্রশাসন পূজার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব।

নাগরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এখানে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ সম্প্রীতি বজায় রেখে ধর্ম পালন করে আসছেন। তাদের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি রয়েছে। আমরা আশা করি বিগত দিনের মতো এ বছরও সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
টাঙ্গাইল,পূজা,আজান
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close