এস এম রাফি, চিলমারী (কুড়িগ্রাম)

  ০১ অক্টোবর, ২০২২

ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও বিক্রি করে লাভবান চাষিরা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও বিক্রি করে আশানুরূপ লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা। প্রত্যেক কৃষক বছরে ৩-১০ মেট্রিক টন পর্যন্ত সার উৎপাদন করছেন। তারা প্রতিকেজি সার বিক্রি করছেন ১১-১২ টাকা দরে, আর তাদের উৎপাদন খরচ হচ্ছে ৬-৭ টাকা। এছাড়া ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনকারী কৃষকরা একই সঙ্গে ১০-৩০ কেজি পর্যন্ত কেঁচো উৎপাদন করছেন। প্রতিকেজি কেঁচো বিক্রি করছেন ৯০০-১২০০ টাকা কেজি দরে। বিশেষ করে বসতভিটা ও স্বল্প পরিমাণে জমিতে শাক-সবজি উৎপাদন করতে ভার্মি কম্পোস্ট সারের ব্যবহার ব্যাপক বেড়েছে। এমনটি জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে ভট্টপাড়া গ্রামের প্রান্তিক চাষি আদুরী বেগম (৫০) প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, গেল এক বছর ধরে তিনি ১০টি রিঙের মাধ্যমে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছেন। প্রতি তিন সপ্তাহ পরপর তিনি প্রত্যেক রিং থেকে ২০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট ও এক কেজি কেঁচো উৎপাদন করছেন। প্রতি তিন সপ্তাহে তিনি ১০টি রিং থেকে ২০০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে তা বিক্রি করছেন ২৪০০ টাকা, আর ১০ কেজি বিক্রি কেঁচো বিক্রি করে পাচ্ছেন ৯০০০ টাকা। ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে প্রতি তিন সপ্তাহে তাকে খরচ করতে হচ্ছে ১৩০০-১৪০০ টাকা।

তিনি বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করতে ব্যবহার করতে হচ্ছে গোবর, ডিমের খোসা, শাক-সবজির পরিত্যক্ত অংশ, ব্যবহৃত চা পাতার অবশিষ্ট অংশ ও পঁচে যাওয়া গাছের পাতা। আমাকে গোবর কিনতে হয় এ জন্য উৎপাদন খরচ একটু বেশি। যাদের গোবর কিনতে হয় না তাদের উৎপাদনে কম খরচ করতে হয়। তিনি আরো বলেন, আমি বাড়িতে বসে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও বিক্রি করে আশানুরুপ লাভবান হচ্ছি। এ টাকা দিয়ে আমাদের দুই ছেলেকে কলেজে পড়াশোনাও করাচ্ছি।

পশ্চিম সরকারপাড়া গ্রামের প্রান্তিক চাষি সলিমুদ্দিন (৫৬) জানান, একটি বেসরকারি সংস্থা তাদের ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সংস্থাটি কেঁচো দিয়ে সহযোগিতা করেছে। দুই বছর আগে তিনি দুই কেজি কেঁচো দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন। এখন তিনি ১০টি রিঙে ১০ কেজি কেঁচো দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করছেন। তিনি আরো বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও বিক্রি করে, যা আয় করছি তা দিয়ে সংসার চলছে ভালোভাবে। পুঁজি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। পুঁজি বাড়লে আরো বেশি পরিমাণে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করতে পারবো।

চিলমারী উপজেলায় সাসটেইনড অপরচুনিটিজ ফর নিউট্রিশন গভর্নেন্স (সঙ্গো) শীর্ষক একটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এসব প্রান্তিক কৃষকদের কেঁচো দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে তাদের উৎপাদিত কেঁচো কিনে নতুন চাষিদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ ও কর্ডএইড।

প্রকল্পটির উপজেলা ব্যবস্থাপক আহসানুল কবির বুলু বলেন, প্রান্তিক কৃষকরা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে নিজেদের বসতভিটা ও স্বল্প পরিমাণে জমিতে শাক-সবজি উৎপাদনে ব্যবহার করছেন। এছাড়া তারা উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

সার ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, তারা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিকেজি ভার্মি কম্পোস্ট সার ১১-১২ টাকা দরে কিনে তা ১৬-১৭ টাকা দরে বিক্রি করেন। আগের তুলনায় ভার্মি কম্পোস্ট সারের বিক্রি বেড়েছে অনেক। ব্যবসায়ী আরও বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট সারের জন্য আমরা উৎপাদনকারী কৃষককে অগ্রিম টাকা দিয়ে থাকি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানান, কৃষি বিভাগ ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা প্রান্তিক কৃষকদের ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে উৎসাহ ও পরামর্শ দিচ্ছে। বিষমুক্ত শাক-সবজি উৎপাদন করতে ভার্মি কম্পোস্ট সারের ব্যবহার জরুরি। ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে প্রান্তিক চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। এ সারের ব্যবহার দিনদিন আরো বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কুড়িগ্রাম,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,শাক-সবজি উৎপাদন,ভার্মি কম্পোস্ট
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close