মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

  ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ক্লোজআপ ওয়ান সেরা ১০, সেই বাঁধন জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও 

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হয়েছেন ‘ক্লোজআপ ওয়ান সেরা ১০’ খ্যাত গুণী শিল্পী মৌলভীবাজার সদরের সাবরিনা রহমান বাঁধন।

প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান মৌলভীবাজার জেলা বাছাই কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান ও সদস্য সচিব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শামসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিদিনের সংবাদকে এক প্রতিক্রিয়ায় সাবরিনা রহমান বাঁধন জানান, দেশের জন্য কাজ করে স্বীকৃতি পেয়েছি, ভালো লাগছে।

সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব থেকে ২০২১ সালের ১ জুন মৌলভীবাজার সদরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদে যোগ দেন সাবরিনা রহমান। একজন জনবান্ধব প্রশাসনিক অফিসার হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।

অবশ্য ইউএনও সাবরিনা রহমানকে দেশের মানুষ চেনে একজন গুণী শিল্পী হিসেবে। ২০১০ সালে জনপ্রিয় টিভি শো ‘ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ দ্বিতীয় আসরে তিনি দেশ সেরা ১০ নির্বাচিত হন। সংগীত জগতের মতো প্রশাসনিক পদেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য হলেন জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও।

শিল্পী বাঁধনের জন্ম নাটোরের নলডাঙা উপজেলার পল্লী ঠাকুর লক্ষীভোল গ্রামে। বাবা ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব)। তিন বোন আর এক ভাইয়ের মধ্যে বাঁধন বড়। শিক্ষা জীবনে ছিলেন অনেক মেধাবী। স্টার মার্ক পেয়ে ১৯৯৯ সালে রাজশাহী বোর্ড থেকে এসএসসি এবং সমান নম্বর পেয়ে ২০০১ সালে ঢাকা বোর্ড থেকে এইচএসসি পাস করেন বাঁধন। স্বপ্ন ছিল বড় ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। ভর্তি হন দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি পাস করে ৩২তম বিএসিএসে অংশ নেন। সুপারিশপ্রাপ্ত হন প্রফেশনাল ক্যাডারের সড়ক ও জনপদ বিভাগে। কিন্তু বাবার ইচ্ছা পূরণে ৩৩তম বিএসিএসে অংশ নেন।

অ্যাডমিনে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে প্রশাসনিক চাকরি জীবনের প্রথম পোস্টিং চট্টগ্রাম কালেক্টোরেটে সহকারী কমিশনার পদে। সাবরিনা রহমান বাঁধন জানান, নিজে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও বাবা চাচ্ছিলেন আমি প্রশাসনে যোগ দেই। তাই এই ক্যাডার পরিবর্তন। আর পিছু হঠতে হয়নি।

প্রশাসনে যোগ দিলেও থেমে নেই তার লেখালেখি আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। লিখেন গল্প-কবিতা-উপন্যাস। মৌলভীবাজারে যোগ দিয়ে সব স্কুল-কলেজ মাদরাসার ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীর জন্য আয়োজন করেছিলেন শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত প্রশিক্ষণ। মুজিববর্ষে তার ব্যতিক্রম আয়োজন চা বাগানে নিয়ে শিশুদের হাতে কলমে আর্টক্যাম্প অনেক প্রশংসিত হয়। এছাড়াও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য চালু করেছেন চাঁদনীঘাটের হাট।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ইউএনও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close