আশরাফুল ইসলাম শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

  ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

৫ দিন পেরিয়ে গেলেও রানার খুনিরা অধরা

প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঘাতকের নির্মম নির্যাতনে রানা (২৩) নামের এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হওয়ার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারিনি পুলিশ। এনিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে রানার পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে।

রানা হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। পরে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ নিয়ে বিচার দাবিতে থানায় আসেন রানার পরিবার। রানার বাবা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে শনিবার রাতেই মামলা করেন। খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে রানার লাশ নিয়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে।

রানা হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা হলো-মাওনা গ্রামের আ করিমের ছেলে শিপন (২৮), আকাশ (২৫) মৃত খোকা মেকারের ছেলে উজ্জল (৪৫), সিরাজুল ইসলামের ছেলে শওকত (৩০), কাশেম এর ছেলে ইমন (৩০), মৃত ওদর আলী বাইদ্যার ছেলে মোশারফ (৫০)।

জানা যায়, শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে শিপন বাহিনি রানাকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্মম নির্যাতন চালায়। ঘাতকরা রানার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক শক দেয়। পুরুষাঙ্গে রড ডুকিয়ে দেয়। ড্রিল মেশিন দিয়ে ছিদ্র করে পায়ের হাড়। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙ্গে ফেলে বুকের পাঁজর, হাত-পা। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬ টায় খবর পেয়ে রানার বাবা-মা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান শিপনের ভাঙ্গারীর দোকানের সামনে অচেতন হয়ে পড়ে আছে রানা। তাকে উদ্ধার করে দিনভর বিভিন্ন হাসপাতালে ছোটাছুটি করেও শেষ রক্ষা হয়নি। রাত ৮ টার দিকে ঢাকা হাসপাতালে রানার মৃত্যু হয়।

রানার বাবা আমিনুল ইসলাম মামলায় অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি পরিবার নিয়ে উৎকন্ঠায় আছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান জানান, মামলার আসামীরা সকলেই পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে।

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, রানা হত্যাকান্ডে এখনো কোনও আসামীকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। গ্রেপ্তারে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত গ্রেপ্তার হবে আসামী।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
গাজীপুর,শ্রীপুর মডেল থানা,ক্ষোভ,অ্যাম্বুলেন্স
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close