আব্দুল বাছিত বাচ্চু, মৌলভীবাজার

  ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

কালের স্বাক্ষী মনু স্টেশন

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

নৌপথে মৌলভীবাজার জেলার একদা ব্যবসা-বানিজ্যের প্রাণকেন্দ্র তথা ট্রানজিট পয়েন্ট মনু রেলওয়ে স্টেশনে আর ট্রেন আসার ঘণ্টা বাজে না। স্টেশনের পাশেই মনু নদীর ঘাটে থাকে না সারি সারি পণ্যবাহী নৌকা। নেই কুলি মজুর আর যাত্রীদের হৈ হল্লা। সেই প্রাণচাঞ্চল্যের জায়গায় এখন সেখানে সুনসান নীরবতা। পরিত্যক্ত রেল স্টেশনের গুদামঘর ও বিশ্রামাগার এখন কালের স্বাক্ষী।

সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনে কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে মনু রেলওয়ে স্টেশনের অবস্থান। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খরস্রোতা মনু নদী। তার ওপর মনু রেলওয়ে ব্রিজ। পাশে রেলওয়ে স্টেশনকে ঘিরে গড়ে উঠা শতাব্দী প্রাচীন বিলুপ্তপ্রায় মনুবাজার।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট-আখাউড়া রেলওয়ে সেকশনে শমসেরনগর ও টিলাগাঁও রেলওয়ে স্টেশন কাছাকাছি থাকার পরও শুধু নৌপথে পণ্যপরিবহনের জন্য বৃটিশ শাসনামলে স্থাপিত হয় মনু রেলওয়ে স্টেশন।

সরজমিন কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের মনু রেলওয়ে স্টেশনে গেলে দেখা যায় শতাব্দীর প্রাচীন স্টেশনটি এখন রেলওয়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি। নেই জনমানবের কোলাহল। স্টেশন মাস্টার, বুকিং ক্লার্ক পয়েন্টসম্যানের বসবাসের ঘর এবং যাত্রী বিশ্রামাগারটি তালাবদ্ধ। দীর্ঘদিন জনমানবের পদচিহ্ন না পড়ার চিত্র স্পষ্ট। পাশেই তালাবদ্ধ রেলওয়ের বিশাল গুদামঘর। পণ্যবাহী ওয়াগন নিয়ে ওঠানামার জন্য নির্মিত প্রায় এক কিলোমিটার আলাদা রেললাইনও এখন পরিত্যক্ত।

মনু বাজারের প্রবীণ বেকারি ব্যবসায়ী কছদ্দর আলী ‘প্রতিদিনের সংবাদ'কে জানালেন, এই রেলওয়ে স্টেশনকে ঘিরে তার ব্যবসার বয়স ৪৫-৫০ বছর হয়ে গেছে। ১৯৮২-৮৩ সালেও রেলপথে আসা মালামাল নিয়ে যাওয়ার জন্য স্টেশনের পাশের নদীর ঘাটে প্রতিদিন শতাধিক নৌকা ভিড়ে থাকত। একসময় ঢাকা ভৈরব চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে আসা তেল চিনি পেঁয়াজ রসুন বাসনকোসনসহ বিভিন্ন পণ্যদ্রব্য এখানে নামানো হতো। পরে এসব পণ্য মনু ও কুশিয়ারা নদী হয়ে মৌলভীবাজার, শেরপুর, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ আজমিরীগঞ্জ, রানীগঞ্জ, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পাইলগাঁও চলে যেত। তখন রেলওয়ে স্টেশনে আসতেন শত শত ব্যবসায়ী যাত্রী।

স্টেশনের নিকটবর্তী মাথাবপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি হাজী আকবর আলী ‘প্রতিদিনের সংবাদ’কে জানান, এমন এক সময় ছিলো এই স্টেশনে কাজ করে শত শত দিন মজুর জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০১৭ সালে আকষ্মিকভাবে স্টেশনটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এখন ঢাকাগামী সুরমা মেইল, চট্টগ্রামগামী জালালাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেন, আখাউড়াগামী ডেম্যুসহ অনেক লোকাল ট্রেন এখানে যাত্রাবিরতি দেয়। যাত্রীরাও উঠানামা করেন। কিন্তু রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় টিকেট কাটা যায় না। এতে রেলওয়ে বিভাগ বড় অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং যাত্রীরাও বিনা টিকেটে ট্রেনে উঠে নানা বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছেন। এমনকি এই রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শতাব্দীর প্রাচীন মনু বাজারটিও বিলুপ্তির পথে।

এলাকার সমাজসেবক সুন্দর আলী বলেন, মনু রেলওয়ে স্টেশনটি চালু করার দাবিতে আমরা ২০১৭ -২০ সাল পর্যন্ত কয়েকবার ট্রেন অবরোধ সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। সে সময় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখানে একজন স্টেশন মাস্টার দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার মঙ্গলবার দুপুরে মুঠোফোনে ‘প্রতিদিনের সংবাদ’কে বলেন, আমাদের জনবলের ঘাটতি রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলওয়ে স্টেশনগুলো চালু করার পরিকল্পনা আছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কালের স্বাক্ষী,কালের স্বাক্ষী মনু স্টেশন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close