এম সাইদ খোকন, আমতলী (বরগুনা)

  ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

আমতলীর খালটি সংকুচিত 

বরগুনার আমতলীতে তালুকদার হাট এলাকায় চাওড়া খাল দখল করে তোলা ঘর 

বরগুনার আমতলীতে চাওড়া খাল দখলের হিড়িক পড়েছে। দখলের ফলে দূষণে এখন খালটির ত্রাহি অবস্থা। স্থানীয় প্রভাবশালীরা তালুকদার হাট এলাকায় চাওড়া খাল অবৈধভাবে দখল করে দুই পাড়ে আধাপাকা ভবন নির্মাণ করেছেন। দখলে দখলে ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে খাল। পাশাপাশি আবাসিক ভবন থেকে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং মলমূত্র ত্যাগ করায় দূষিত হচ্ছে খালের পানি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে চাওড়া খালের তালুকদার হাট এলাকায় সেতু নির্মাণের পর ঐ এলাকায় ব্যবসাকেন্দ্র গড়ে ওঠে। এর পরপরই শুরু হয় খালের দুই পাড় দখল। আধা কিলিমিটার এলাকাজুড়ে খালের পূর্বপাড় সিদ্দিক মৃধা, মতি মেম্বার, আলতাফ খান, কবির মৃধা, আহসান মৃধা বশার ডিলার, লিটন মাস্টার, লোকমান ডাক্তার এবং খালের পশ্চিমপাড় স্থানীয় জাকির মৃধা, হারুন মৃধা, দেলোয়ার মৃধা, অনিল মিস্ত্রী, সেন্টু ব্যাপারী আশ্রাফ আলী মল্লিক, হাসান মৃধা, জালাল মৃধা, আবুল গাজী, মোতাহার মাস্টার, সোহেল প্যাদা, খলিল খাঁ, মতিন খাঁ, শাহীন হাওলাদার, শানু হাওলাদার, নিজাম উদ্দিন চৌকিদার, মো. সেলিমসহ দুই শতাধিক প্রভাবশালী রাতারাতি দখল করে নেন। দখল করা জায়গায় গড়ে তোলা হয় আধা পাকা আবাসিক ভবন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। খাল দখল করে তোলা এসব ঘর ভাড়া দিয়ে প্রভাবশালীরা প্রতি মাসে মোট অঙ্কের টাকা আয় করছেন।

ভবন তোলার জন্য অনেকেই খালে মাটি ফেলে অর্ধেকটাই ভরাট করে ফেলেছেন। খালের দুই পাড় মাটি ও রাবিশ দিয়ে ভরাট করায় প্রবহমান খালের গতিপথ প্রায় বন্ধের উপক্রম। প্রবাহমান স্রোত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় খালের তলদেশে পলি জমে গেছে এবং পানির গভীরতা কমে গেছে। এতে নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে এ খালে নৌ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

খালের পাড়ের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিয়ত খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। মলমূত্র ত্যাগ করায় পানি দূষণ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন জানান, যেভাবে খাল দখল শুরু হয়েছে তাতে দু’এক বছরের মধ্যে এ খালের অস্তিত্ব থাকবে না। ফলে নৌ চলাচলে বিপর্যয় নেমে আসবে। প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো ভূমিকা রাখছে না।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা গেছে, খালের দুই পাড়ে দুই শতাধিক আধাপাকা ঘর। এসব জায়গায় খাল অনেক সংকুচিত। অনেক ঘরের সঙ্গে রিংস্লাব বসিয়ে পায়খানা বসানো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, খাল দখলকারীরা অনেক প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চায় না।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) সাদিক তানভীর বলেন, খাল দখল করা সম্পূর্ণ অবৈধ। যারা অবৈধভাবে খাল দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আধা পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দখলদারদের হাত থেকে খাল উদ্ধার করা হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আমতলী,খাল
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close