চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

চুয়াডাঙ্গায় চার কিশোরকে নির্যাতন, ওসি ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় চার কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনে আটক রেখে অমানবিক নির্যাতন, টাকা দাবি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে থানার ওসি লুৎফুল কবীর এবং এসআই আহম্মেদের বিরুদ্ধে। তবে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিদিনের সংবাদকে জানিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ এবং জজ আদালতে মামলা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না।

রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনার ওসি লুৎফুল কবীর ও এসআই আহম্মেদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন নির্যাতনের শিকার আজিজুল, নিশান, সুজাত ও নইম হোসেনের অভিভাবকরা।

গত ৮ সেপ্টেম্বর একই বিষয়ে দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরেও অনুরূপ লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগে ৭২ ঘণ্টায়ও তাদের আদালতে না তুলে থানা হেফাজতে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। দায়রা জজ মো. জিয়া হায়দার মামলাটির শুনানির জন্য আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত ৩০ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন গয়েশপুর-সড়াবাড়ী এলাকায় গণডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৩৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা লুট করে ডাকাত দল। এখন পর্যন্ত প্রকৃত ডাকাতদের চিহ্নিত ও লুট হওয়া টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। অথচ শিক্ষার্থীসহ চার নিরীহ কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় এনে ৭২ ঘণ্টা আটকে রেখে চরম অমানবিক নির্যাতন করেন ওসি। নির্যাতন বন্ধে এবং মামলা না দেওয়ার শর্তে অঙ্ক উল্লেখ না করেই টাকা দাবি করেন ওসি।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ওসির নির্যাতনে গুরুতর আহত কিশোরদের একজন সুজাতকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। চার কিশোরের অভিভাবকদের কাছে ওসির দাবিকৃত টাকা আদায়ে তাদের বাড়িতেও যান এসআই আহম্মেদ এবং টাকা নিয়ে থানায় যাওয়ার পর তাদের সন্তানদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন। এরপরই কিশোর আজিজুলের বাবা ধারদেনা করে ৫০ হাজার টাকা ও নিশানের বাবা গরু বিক্রি করে ৬৭ হাজার টাকা নিয়ে থানায় যান। কিন্তু টাকার অঙ্ক কম হওয়ায় তাদের ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। ধাক্কা দেওয়া হয় নিশানের বড়বোনকেও। টাকা না পেয়েই ক্ষিপ্ত হয়ে চার কিশোরকে ফাঁসানো হয় ঝিনাইদহের অন্য একটি সড়ক ডাকাতির পেন্ডিং মামলায়।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবীবুল ইসলাম হাবীবের সুপারিশে পুলিশে নিয়োগ পান ওসি লুৎফুল কবীর। সুপারিশ কর্তা সেই সংসদ সদস্য হাবীবুল ইসলাম এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় কারাগারে রয়েছেন। ওসি লুৎফুল কবীর তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের লাউতারা গ্রামের বাসিন্দা।

এই মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে ওসি লুৎফুল কবির বলেন, আমার বিরুদ্ধে কবে মামলা হয়েছে? কিসের অভিযোগ, কই আমি তো জানি না। অভিযুক্ত এসআই আহম্মেদও ওসির সুরেই কথা বলেন এবং তিনিও এ ব্যাপরে কিছুই জানেন না বলে জানান।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কিশোর,ডাকাতি
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close